আমাদের ভারত, ২১ জানুয়ারি: দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল তথা ক্যাট ডিজিপি নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার প্রশ্নে কড়া ভাবে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এর ফলে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ক্যাট স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিজিপি এমপ্যালেনমেন্ট সংক্রান্ত প্রস্তাব ইউপিএসসি’র কাছে পাঠাতেই হবে।
অন্যদিকে রাজ্য সরকার ও ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন দু’পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে ক্যাট।
ক্যাটের এই চাপের পর প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যের তরফে ডিজিপি নিয়োগে কোন কোন পদক্ষেপ করার সম্ভাবনা থাকতে পারে?
প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, তিন রকম বিকল্প রাজ্য সরকারের কাছে রয়েছে। ক্যাটের নির্দেশ মেনে নতুন ইউপিএসসি’র কাছে প্যানেল পাঠাতে পারে রাজ্য। ট্রাইবুনাল যে নির্দেশ দিয়েছে সেটা অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিতে পারে।
আইন সঙ্গত পথে ৪৮ ঘন্টা অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারির মধ্যে ইউপিএসসি’র কাছে ডিজিপি পদের এমপ্যানেলমেন্ট সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো। তারজন্য নির্দিষ্ট করে রাজ্য সরকারকে এবার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। প্রকাশ সিংহ মামলার নির্দেশ মেনে এই প্রস্তাব পাওয়ার পর ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ইউপিএসসি’কে এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির বৈঠক ডেকে তিনজন সিনিয়র আইপিএস অফিসারের প্যানেল তৈরি করতে হবে এবং ২৯ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে। এই পথে হাঁটলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক গরিমশির অভিযোগ থেকে বাঁচার সুযোগ থাকছে।
আবার অন্য পথ হলো, রাজ্য সরকার ক্যাটের নির্দেশ না মেনে বরং তাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে। এর আগে ইউপিএস- এর রাজ্যের পাঠানো প্যানেল ফেরত দিতে জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, নির্ধারিত সময়ের দেড় বছর দেরিতে প্যানেল পাঠানোর আগে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। সেই যুক্তিকেই সামনে রেখে রাজ্য সরকার যদি শীর্ষ আদালতে যায়, তাহলে গোটা নিয়ম প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ক্যাট যেভাবে অফিসারের বিবেচনা আর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে তাতে এই পথে গেলে নবান্নকে কঠিন আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে।
শেষ পথ হলো এসব কিছু না করে ৩১ জানুয়ারির পর অ্যাক্টিং ডিজিপি নিয়োগ করে দিতে পারে নবান্ন। বর্তমানে ডিজিপি রাজীব কুমারের মেয়াদ শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি। তার অবসরের পর কোনো সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে অ্যাক্টিং ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব দিতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। তবে এতেও কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গ ছোট কোনো রাজ্য নয়। সেখানে আইন শৃঙ্খলার সামগ্রিক দায়িত্বে থাকা ডিজিপির মতো পদে বারবার অ্যাক্টিং অফিসার নিয়োগ করলে ইতিবাচক বার্তা যাবে না। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের পর এই পথে হাঁটলে নতুন বিতর্ক উঠতে পারে। বিশেষ করে ট্রাইবুনাল যখন স্পষ্ট করে বলেছে যে প্রক্রিয়া চলাকালীন নিয়ম বদলানো চলবে না তখন এই বিকল্প কতটা টেকসই হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
তাছাড়া ক্যাট পরিষ্কার করে দিয়েছে রাজ্য যে দেরি করেছে তার দায় ইউপিএস- এর উপর বর্তায় না, কিন্তু সেই দেরির ফল অফিসারদের ভোগ করতে দেওয়া যাবে না। ফলে ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে এখন নবান্নের প্রতিটি সিদ্ধান্তই থাকবে আদালতের কড়া নজরে। এখন দেখার রাজ্য ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে কোন পথে এগোয়।

