আমাদের ভারত, ১৫ জুন:
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সেনসিটিভিটি টেস্ট করানো প্রয়োজন। তিনি এখনো পর্যন্ত বুঝতে পারছেন না কোন কোন এলাকা স্পর্শকাতর। পঞ্চায়েত ভোটে আদালতের রায়ের পরেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে পদক্ষেপ না করায় রাজীব সিনহার সম্পর্কে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য নির্বাচন কমিশন স্তাবকতা করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মতো চলছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কাজ করছেন।
মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে লাগাতার অশান্তি অব্যাহত রাজ্যের প্রায় সব প্রান্তেই। একাধিক জেলায় পরিস্থিতি পুলিশ প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে গেছে। বুধবার মনোনয়নের পঞ্চম দিনে সেই অশান্তি বজায় ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙর, ক্যানিং, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, বসিরহাট, বাঁকুড়ার ইন্দাস সহ একাধিক জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন বিরোধীরা এমনকি পুলিশকর্মীরাও। পুলিশের সামনেই দেদার বোমাবাজি চলেছে দিনভর। ভয়ে পুলিশকেও পালাতে দেখা গেছে একাধিক জায়গায়।
বসিরহাট, সন্দেশখালি সহ একাধিক জায়গায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা পেয়ে সুকান্ত মজুমদার দলের প্রার্থীদের নিয়ে সোজা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে চলে এসেছিলেন। আর সেখান থেকে কমিশনের উদ্দেশ্যে একের পর এক কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজীব সিনহাকে তীব্র আক্রমণ করে বিজেপি নেতা বলেন, “আমরা আদালতে শরণাপন্ন হচ্ছি কারণ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের যে মানসিকতা দেখলাম তারা আদালতের কোনও রায় কার্যকর করার চিন্তা ভাবনাই দেখাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কথা বললাম উনি এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য রিকুইজিশনই দেননি। উনি বলেছেন স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করায় রায় পেয়েছি কিন্তু কোনটা স্পর্শকাতর এলাকা সেটাই এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। ওঁর সেন্সিটিভিটি টেস্ট করাতে হবে।”
বিরোধীদের এই প্রতিবাদের ঘটনায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই বলেই এইসব করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে। এর পাল্টা দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৭ হাজার নোমিনেশন জমা দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তৃণমূল কি বলতে পারবে যে তাদের দলের নমিনেশন কটা করেছে? এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমাদের পায়ের তলায় যদি মাটি না থাকে তাহলে যারা হাতে নমিনেশন পেপার নিয়ে কলকাতায় নমিনেশন করতে এসেছে তারা কারা? যদি বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নাই থাকে তাহলে নমিনেশন করতে গেলে তৃণমূল বিজেপি কর্মীদের পেটাচ্ছে কেন? ভয় কেন পাচ্ছে তৃণমূল?
সুকান্ত মজুমদার অভিযোগের সুরে বলেন, নির্বাচন কমিশনার, ডিএম, এসপি-রা তো তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বা জেলার কার্যকরী সভাপতি, তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কিছুই হবে না। নির্বাচন কমিশন স্তাবকতা করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস যা বলছে সেটাই বিশ্বাস করছে।

