আমাদের ভারত, ৫ ফেব্রুয়ারি: কোনো স্পষ্ট দিশা মিলল না রাজ্যের বাজেটে। ঘুরেফিরে কেবল ভাতার ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলো রাজ্য বাজেট। এভাবেই মমতা সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটকে ব্যাখ্যা করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
কোনো স্পষ্ট দিশা পাওয়া গেল না। ভোট অন অ্যাকাউন্ট বলে রাজ্য বাজেটের তীব্র সমালোচনা করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর বক্তব্য, গোটা বাজেট ঘুরে ফিরে কেবল ভাতার ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ৫০০, ১০০০, ১৫০০ টাকার অঙ্ক ছাড়া কর্মসংস্থান, শিল্প বা স্থায়ী কাজের কোনো রূপরেখাই উঠে আসেনি বাজেটে।
নওশাদের দাবি, বাংলায় লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী রয়েছেন, কিন্তু বাজেটে কোথাও বলা হলো না কত হাজার বা কত লক্ষ চাকরি তৈরি হবে। কিভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে? শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কিভাবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা হবে? তার বদলে আবার ভাতার কথাই শোনানো হলো।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাজেট একমুখী বলে আক্রমণ করেছেন ভাঙড়ের এই বিধায়ক। তাঁর কথায়, গোটা স্বাস্থ্য পরিষেবাকে কার্যত স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।গ্রাম, মফস্বল থেকে শুরু করে শহরের সাধারণ মানুষ কিভাবে সার্বিক বা বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন সে বিষয়ে বাজেটে কোনো স্পষ্ট দিশা নেই।
একই সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল মাত্র ৪ শতাংশ মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
বেকার যুবদের জন্য ১৫০০ টাকা ঘোষণাকে নিছক ভোটের চমক বলে কটাক্ষ করেছেন নওশাদ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ভাতা নয়, কাজের ব্যবস্থা হলে তবেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এই ভাতার বদলে যদি কর্মসংস্থানের ঘোষণা করা হতো, কাজের সুযোগ তৈরি হতো, তাহলে আমি নিজে বিরোধী আসনে বসে টেবিল চাপড়াতাম।
বস্তুতঃ লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প থেকে শুরু করে আশা কর্মী আঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক পুলিশ, পার্শ্ব শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে এই বাজেটে। একইসঙ্গে এবারে বাজেটে সবথেকে বড় ঘোষণা মাধ্যমিক পাশ বেকারদের জন্য, মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন তারা।

