রাজেন রায়, কলকাতা, ১৪ আগস্ট: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পড়ুয়াদের হাতে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড তুলে দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার এবং মঙ্গল বার ১৭০ জন পড়ুয়াকে প্রাথমিকভাবে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
জানা গিয়েছে, জেলাশাসকের দফতরের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক মারফত স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড ছাত্র ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন এসেছে প্রায় ৭০,০০০। সূত্রের খবর, বর্ধমান ও হুগলিতে সব থেকে বেশি পড়ুয়ার হাতে তুলে দেওয়া হবে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। কার্ডে পড়ুয়ার একাধিক তথ্যের উল্লেখ থাকবে। আলিপুরদুয়ার থেকে ৫ জন পড়ুয়া, কোচবিহার থেকে ৫ জন, দার্জিলিং থেকে ২ জন, কালিম্পং থেকে ১ জন, উত্তর দিনাজপুর থেকে ৯ জন, মালদহ থেকে ১১ জন, জলপাইগুড়ি থেকে ৩ জন, নদিয়া থেকে ৩ জন, পূর্ব বর্ধমান থেকে ৩৩ জন, পশ্চিম বর্ধমান থেকে ৬ জন, হাওড়া থেকে ৬ জন, হুগলি থেকে ৩৭ জন, উত্তর ২৪ পরগনা থেকে ৪ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ১০ জন,বাঁকুড়া থেকে ১৪ জন, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ৮ জন, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ৫ জন পড়ুয়া ও কলকাতা থেকে ১০ জন পড়ুয়াকে আপাতত এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
তবে সব বিভাগের পড়ুয়াদের সুবিধা নাও হতে পারেন। বলা হয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, আইন, আইএএস, আইপিএস, ডব্লুবিসিএস, এসএসসি, পিএসসি, ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই ঋণ প্রযোজ্য। স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা কোর্স, ডক্টরাল বা পোস্ট ডক্টরাল কোর্সের ক্ষেত্রে টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়াও আইআইটি, আইআইএম, আইআইইএসটি, আইএসআই, এনএলইউ, এনআইটি, এক্সএলআরআই, বিআইটিএস, এসপিএ, এনআইডি, আইআইএস, আইআইএফটি, আইসিএফএ আই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও আবেদন করা যাবে।
কত টাকা পর্যন্ত ঋণ কত দিনে যাবে তা নির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে। সর্বাধিক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। বছরে সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ সুদে ঋণ মেটাতে হবে পড়ুয়াকে। ৪ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও মার্জিন মানি দিতে হবে না অর্থাৎ ব্যাঙ্কে এককালীন কোনও টাকা দিতে হবে না। তার বেশি টাকা ঋণ নিলে সেই টাকার ওপর ৫ শতাংশ মার্জিন মানি দিতে হবে। কোর্স চলাকালীন যে কোনও সময়ে এই ঋণ নেওয়া যাবে। ঋণ দেওয়া হলেও ব্যাঙ্ক সরকারি পোর্টালে সেই তথ্য আপলোড করবে। ঋণ নেওয়ার জন্য ব্যাঙ্ক কোনও অতিরিক্ত শর্ত চাপাতে পারবে না। সরকারই এই ঋণের গ্যারেন্টার হবে। ব্যাঙ্কে পড়ুয়ার অভিভাবককে কোনও চাপ দিতে পারবে না। ১৫ বছরের মধ্যে সুদ মেটাতে হবে। কোনও অভিভাবক চাইলে আগেও সেই টাকা মিটিয়ে দিতে পারেন। শুধু দেশে নয়, বিদেশে পড়াশোনা করার ক্ষেত্রেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত এই ঋণ নেওয়া যাবে। ১৫ বছর ধরে সেই ঋণ পড়ুয়ারা শোধ করতে পারবেন।

