সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ আগস্ট: এবছর পুরুলিয়া জেলায় বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা আমন ধানের চাষ সেভাবে করতে পারেননি। অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। হঠাৎই একটা বৃষ্টি পাওয়ার জন্য কৃষকরা মাঠে নেমেছেন। বেশ কিছু চারার বয়স ষাট থেকে সত্তর দিন হয়ে গেছে এমন কি কোথাও কোথাও আশি পঁচাশি দিনের চারা রোপণ করতে দেখলেন কৃষি দফতরের বিশেষ সচিব হৃষিকেশ মুদি। আজ ঝালদা মহকুমা এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন তিনি। বীজতলা থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টির অভাবে চারা লাগানোর কাজটি তাঁরা করতে পারেননি কৃষকরা।

এলাকার কৃষকরা বলেন, “এবছর বৃষ্টি সঠিক সময়ে পরিমাণমত না হওয়ায় চারা লাগাতে পারিনি। কাল রাত থেকে আজকের বৃষ্টি কিছুটা ঘাটতি পূরণ করেছে।”। কৃষক ও কৃষিজীবী মানুষের সঙ্গেও কথা বলেন হৃষিকেশ বাবু। একই সঙ্গে কৃষকদের তিনি রবি চাষের পরামর্শ দেন। বিশেষ সচিব কৃষকদের বাংলা শস্য বিমার জন্য আবেদন করতে এবং রবি মরশুমে মাটির রসকে কাজে লাগিয়ে সরষে, মুসুর, খেসারি চাষের পরামর্শ দেন।

গতকাল রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকায় যান তিনি। নেতুড়িয়া ব্লক এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলেন। নেতুড়িয়া ব্লকের গড়পঞ্চকোট, গোবাগ, জনার্দনডি, আঁকদুয়ারা মৌজাতে যান। পরে রঘুনাথপুর ১, ২ ও পাড়া ব্লকেরও বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন করেন।নেতুড়িয়া ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তা পরিমল বর্মন বলেন, “দুদিনের বৃষ্টিতে আমন মরশুমে বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা মিটল। মাঝে মধ্যে অল্পবিস্তর বৃষ্টি পাওয়ায় বাঈদ ও কানালী জমিতে কিছুটা চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে।এরকম একটা পরিস্থিতিতে বিশেষ সচিব কৃষকদের শস্য বিমা প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। বাংলা শস্য বিমা প্রকল্পের আওতায় এখনও পর্যন্ত আশি শতাংশ কৃষক এসেছেন।” এই মাসের মধ্যে বাকিটা হয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি।
পরিদর্শনের পর কৃষি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সামগ্রিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেন বিশেষ সচিব। সর্বাধিক কৃষককে বাংলা শস্য বিমা প্রকল্পের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে রবি চাষের প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়ার পরামর্শ দেন সচিব।

