পুরুলিয়ার বেলগুমা পুলিশ লাইনে ছেলেকে হত্যা করে আত্মঘাতি মাওবাদী কোটায় চাকরি পাওয়া স্পেশাল হোমগার্ড

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৪ জানুয়ারি: পুরুলিয়ার বেলগুমা পুলিশ লাইনে ছেলেকে হত্যা করে আত্মঘাতি মাওবাদী কোটায় চাকরি পাওয়া স্পেশাল হোমগার্ড। বেলগুমা পুলিশ লাইনের কোয়ার্টার থেকে শিশু ও তার বাবা স্পেশাল হোমগার্ডের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুলিশ মহলে।

আজ সকালে পুরুলিয়া শহরের বেলগুমা পুলিশ লাইনের স্পেশাল হোমগার্ডের ৮ নম্বর কোয়ার্টারের মেঝে থেকে দুটি রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা পুলিশ সুপার এস সিলভামুরগণ সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই স্পেশাল হোমগার্ডের নাম হেমন্ত হেমব্রম (২৮) এবং তাঁর ছেলের নাম সোমজিত হেমব্রম(৬)। বাড়ি পুরুলিয়ার আড়ষার তানাসি গ্রামে।

জানা গিয়েছে, প্রাক্তন মাওবাদী ছিলেন হেমন্ত হেমব্রম। মাওবাদীদের অযোধ্যা স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য ছিল হেমন্ত। তার প্রেমিকা চম্পা হেমব্রমও ওই স্কোয়াডের সদস্য ছিল। সেখানেই তাদের প্রণয় সম্পর্ক গড়ে। রাজ্যে পরিবর্তনের পর থিতু হয় পরিস্থিতি। পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে কিষেনজির মৃত্যুর পর মাওবাদীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফেরানোর জন্য পুলিশের চাকরির কথা ঘোষণা করে। রাজ্য সরকারের প্যাকেজ পাওয়ার আশায় জেলা পুলিশের কাছে হেমন্ত ও তার প্রেমিকা আগ্নেয়াস্ত্র সহ আত্মসমর্পণ করে। ২০১২ সাল থেকে তিন বছর বেলগুমা পুলিশ লাইনের ট্রানজিট ক্যাম্পে ছিল তারা। সেখানেই চম্পার সঙ্গে হেমন্তের বিয়ে দেয় পুলিশ। এরপরই হেমন্ত স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি পায়। স্ত্রী চম্পা হেমব্রম ও শিশু সহ থাকত বেলগুমা পুলিশ লাইনের স্পেশাল হোমগার্ডের দোতলায় ৮ নম্বর কোয়ার্টারে।

জানা গিয়েছে, ট্রানজিট ক্যাম্পে থাকাকালীনই উৎশৃঙ্খল জীবন যাপন করত হেমন্ত। এর আগে স্ত্রী চম্পাকেও গায়ে কেরোসিন লাগিয়ে আগুনে পোড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কোনও ক্রমে পালিয়ে বেঁচে যান চম্পা। পরিবারে অশান্তি প্রায় দিনই হতো। মাঝে মধ্যেই স্বামীর আতঙ্কে পালিয়ে পাশাপাশি ভাইয়ের কোয়ার্টারে চলে যেত। পারিবারিকভাবে হেমন্তকে নিয়ে আলোচনা করে আচরণ ঠিক করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু নিজেকে শোধরাতে পারেনি সে।

আজ সকাল সাড়ে পাঁচটায় তার ঘরের মেঝে থেকে শিশু ও তার বাবা স্পেশাল হোমগার্ডের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বেলগুমা পুলিশ লাইনে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকি দত্ত (হেড কোয়ার্টার) জানান, “টামনা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর কেস করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *