সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৭ মার্চ: যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের তৎপরতায় যারপরনাই উছ্বসিত সৌমাল্য।ইউক্রেনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা সৌমাল্য। গতকাল ইউক্রেন থেকে ফেরার পর আজ তাকে শুভেচ্ছা জানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডা: সুভাষ সরকার। আজ সকালে সৌমাল্যর কেন্দুয়াডিহির বাড়িতে হাজির হন সুভাষবাবু। কেন্দ্রীয়
মন্ত্রীকে দেখে আপ্লুত সৌমাল্য ও তার বাবা মা।সুভাষ বাবু তার কাছে যুদ্ধের পরিস্থিতি ও তার অভিজ্ঞতা শোনেন।
সৌমাল্য ইউক্রেনের খারকিবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।যুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সে জানায়, যুদ্ধ শুরু হতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসমেন্টে তারা আশ্রয় নেয়। সেখানে খাবার ও পানীয় জলের অভাব শুরু হয়। মূহু মূহু বোমার আওয়াজে সবাই সন্ত্রস্ত।অপরদিকে বাড়ি ফেরার চিন্তা অবশেষে গত মঙ্গলবার পোল্যান্ড সীমান্তের উদ্দেশ্য ট্রেনে ওঠে। সেখান থেকে পোল্যান্ড সীমান্তে আর এক অভিজ্ঞতা। তখন সেখানের তাপমাত্রা মাইনাস পাঁচ। পোল্যান্ডে প্রবেশের জন্য বহু মানুষ হাজির। খোলা আকাশের নীচে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে। শেষমেষ পোল্যান্ডে প্রবেশের পর সেখানে ভারতীয় দূতাবাস তাদের হোটেলে থাকার ব্যবস্হা করলে স্বস্তি ফেরে। সেখান থেকে বিমানে দিল্লি হয়ে কলকাতা পৌঁছায় রবিবার। তারপর বাঁকুড়ায়।
ইউক্রেন থেকে তাদের ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারের প্রচেষ্টায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সৌমাল্য জানায়, দেশের মানুষদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার এই ব্যবস্হায় আমরা খুশি। এরকম ব্যবস্হা অন্য কোনো দেশ করেছে কি না জানা নেই।
এ প্রসঙ্গে সুভাষ বাবু জানান, সৌমাল্যরা যে সময় দিল্লিতে পৌছায় তার আগের বিমানে ইস্তামবুল থেকে অনূরূপ একটি বিমান আসে। সেই বিমানের যাত্রীদের রিসিভ করার দায়িত্ব বর্তায় আমার উপর। না হলে হয়তো সৌমাল্যর সাথে সেখানেই দেখা হতো।

