মিনাখাঁ ঘটনার জের, এনআই তদন্তের দাবিতে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি সৌমিত্রর

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৭ নভেম্বর: ‘বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে এরাজ্য নতুন নাম নথিভুক্ত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা আসতে শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ বারুদের স্তুপে দাঁড়িয়ে। সমাজবিরোধীদের আতুঁড় ঘরে পরিণত হয়েছে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি, যা আগামীদিনে ভারতবর্ষের কাছে আতঙ্কের।” বৃহস্পতিবার দিল্লি যাওয়ার আগে দুর্গাপুরে মিনাখাঁর ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তোপ দাগলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। পাশাপাশি রাজ্য বোমা, বারুদ উদ্ধারে এনআইএ র তদন্তের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার মিনাখার বকচোরা গ্রামে মজুত বোমা ফেটে সোহানা খাতুন নামে এক নাবালিকার মৃত্যু হয়। ঘটনায় আবু হোসেন নামে এক তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে প্রচুর তাজা বোমা উদ্ধার হয়। ঘটনার পর গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি কেশপুরে বোমা ফেটে এক তৃণমূল নেতা হাত উড়ে যায়।

কুলপিতে একইরকমভাবে বোমা উদ্ধার হয়। একের পর এক বোমাকান্ডে বিস্তর শোরগোল পড়ে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির অভিযোগ, পঞ্চায়েত ভোটে সন্ত্রাস করতে শাসকদল প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহঃস্পতিবার দুর্গাপুর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এদিন দিল্লি যাওয়ার আগে মিনাখাঁ, কেশপুর, কুলপির ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া আক্রমন করেন।

তিনি বলেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে হিংসার দগে দগে ঘা এখনও রয়েছে রাজ্যের মানুষের। তারপর বীরভুমের বগটুই কান্ড শিউরে তোলার মত। তারপর সম্প্রতি একের পর এক বোমা বিস্ফোরন সারা দেশের কাছে অশনি সঙ্কেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে এরাজ্য নতুন নাম নথিভুক্ত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা আসতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই সীমান্তবর্তী বুথগুলোতে ১০০-১৫০ নতুন নতুন নাম নথিভুক্ত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ বারুদের স্তুপে দাঁড়িয়ে। পশ্চিমবঙ্গের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। সমাজবিরোধীদের আতুঁড় ঘরে পরিনত হয়েছে, যা আগামীদিনে সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়বে এবং ভারতবর্ষের কাছে আতঙ্কের দিন হয়ে দাঁড়াবে।”

তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে একের পর ঘটনায় এই মুহূর্তে এনআইএ তদন্ত হওয়া উচিত। দিল্লি পৌঁছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের কাছে পশ্চিমবঙ্গে এনআইএ তদন্তের দাবি জানাবো।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *