আমাদের ভারত,২২ মে: এবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরতে চান প্রাক্তন বিধায়ক এবং রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ। বিধানসভা ভোটের টিকিট না পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন এবং রাতারাতি মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু বিজেপিও তাঁকে বিধানসভা ভোটের টিকিট দেয়নি। এবার আবার বিজেপি থেকে তৃণমূলের ফেরার আর্তি তাঁর গলায়।
গত ৫ মার্চ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন মমতা। আর সেখানে বাদ পড়েছিলেন সাতগাছিয়া চারবারের বিধায়ক সোনালী। তাকে বাদ দিয়ে সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী হন বিষ্ণুপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি মোহন নস্কর। তারপরই সংবাদমাধ্যমে চোখের জল ফেলে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার কথা ঘোষণা করেন সোনালী। এরপর বিজেপির হেস্টিংসের অফিসে গিয়ে পতাকা নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
ভোট পর্ব মিটতেই মোহভঙ্গ ফলে, এবার আবার তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে মমতার উদ্দ্যেশ্যে আবেগপ্রবণ খোলা চিঠি সোনালীর।
সোনালি লেখেন, ‘সম্মানীয় দিদি, আমার প্রণাম নেবেন, আমি সোনালি গুহ, অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলছি যে, আমি আবেগপূর্ণ হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়ে ছিলাম যেটা ছিল আমার চরম ভুল সিদ্ধান্ত, কিন্তু সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনই আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না’। টুইটে তিনি আরও লেখেন, ‘দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচব না। আপনার আঁচলের তলে আমাকে টেনে নিয়ে, বাকি জীবনটা আপনার স্নেহতলে থাকার সুযোগ করে দিন’। সূত্রে খবর, মমতাকে টুইট করার পাশাপাশি তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগও করতে শুরু করেছেন সোনালি।
এরপর সোনালী সংবাদ মাধ্যমের কাছে আরো অভিযোগ করেন, বিজেপির পক্ষ থেকে তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বলা হয়েছিল সেটা তার পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। অথচ তৃণমূলে টিকিট না পেয়ে ভেঙে পড়া সোনালী আগে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার ফল তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল দিয়েছে। আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “আমি মমতাদির বাড়ির লোক ছিলাম। মমতাদি এটা করতে পারলেন, বিশ্বাস করতে পারছি না।” কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেছিলেন, “একবার আমাকে দিদি ডেকে বলতে পারতেন যে তোকে টিকিট দিচ্ছি না।”
সোনালীর এই চিঠি প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কূনাল ঘোষ জানিয়েছেন, দল ছেড়ে যাওয়াদের দলে ফিরতে চাওয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের তৃণমূলের নীতিগত ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আপাতত এখন প্রধান কাজ করোনার মোকাবিলায় করা।

