আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৯ মার্চ: তৃণমূলে টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহমানের ছেলে সঞ্জিবুর রহমান। রবিবার কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় ২৯৪নং মুরারই বিধানসভায় সঞ্জিবুর রহমান ওরফে বাপ্পার নাম লক্ষ্য করা গিয়েছে।
২০১৬ সালে মুরারই বিধানসভা থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন আব্দুর রহমান। ২০২১ সালের নির্বাচনের কিছুদিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়, তৃণমূলের টিকিট পান কংগ্রেস আমলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের ছেলে চিকিৎসক মোশারফ হোসেন। এবার মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের একাধিক প্রার্থী দাবিদার হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পাথর ব্যবসায়ী আলি খান এবং ঠিকাদার আব্দুর রহমানের ছেলে সঞ্জিবুর রহমান। নিজেদের জনসমর্থন দেখাতে দু’জনেই খরচের প্রতিযোগিতা শুরু করে দেন। কেউ দুয়ারে স্বাস্থ্যের ক্যাম্প করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেন, অন্যজন সাধুসন্ত, মুসলিম ধর্মগুরুদের সম্মাননা জানিয়ে অর্থ ব্যয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষ খেলা- মেলা করে জনসংযোগ বাড়াতে থাকেন। তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল অবশ্য সঞ্জিবুরকে প্রার্থী করার পক্ষে ছিলেন। দুই দাবিদারের বিবাদ মেটাতে তৃণমূল কংগ্রেস ফের মোশারফ হোসেনেই আস্থা রাখে। এরপরেই কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন সঞ্জিবুর। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী করে। এলাকার মানুষের দাবি, সঞ্জিবুর রহমান কংগ্রেস প্রার্থী হলেও তাঁর মাথায় অনুব্রত মণ্ডলের হাত রয়েছে। যদিও প্রচারে ব্যস্ত থাকায় দু’জনেই কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রে ফের কংগ্রেস প্রার্থী করা হল প্রাক্তন বিধায়ক মিল্টন রশিদকে। ফলে ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের বহিরাগত প্রার্থী কাজল শেখের সঙ্গে ভূমিপুত্র মিল্টনের লড়াই জমে উঠবে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ। মিল্টন বলেন, “আমি হাঁসন কেন্দ্রের মাড়গ্রামের বাসিন্দা। সেখানেই আমার জন্ম। গত নির্বাচনে এলাকার মানুষ বহিরাগত প্রার্থীকে জিতিয়ে আফসোস করছিল। এবার তাঁরা আর ভুল করবেন না। ঘরের ছেলেকেই ফের জয়ী করবেন”।

