সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৭ এপ্রিল: প্রতিদিনি মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে অশান্তি করত বাবা। মারধর, গালিগালাজ চলতেই থাকত। সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাবাকে গুলি করে খুন। প্রমাণ লোপাট করতে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিল ছেলে। শনিবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার গোবরাপুর কেউটিপাড়া এলকায়। অভিযুক্ত ছেলে আশানুর গোলদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যাক্তির নাম মোহর গোলদার (৪৫)।

পরিবারের দাবি, মোহর গোলদার প্রতিদিন অত্যাধিক পরিমাণে নেশা করে বাড়ি ফিরত। তারপরই চলত অশান্তি, ছেলেদের উপর মারধর, তার স্ত্রীর উপরে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগ৷ প্রতিদিনের মত শনিবার রাত দশটা নাগাদ পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছালে তার স্ত্রী ছোট বৌমাকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পাশের বাড়িতে চলে যায়। প্রতিবেশীদের মুখে তিনি শুনতে পান বাড়ির সামনে আগুন জ্বলছে। খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন, তার স্বামী মোহর গোলদার অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে। খবর দেওয়া হয় বনগাঁ থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বনগাঁ থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পাঠায়।
মৃতের স্ত্রী তহমিন গোলদার বলেন, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তার স্বামী মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি এসে অশান্তি করতো। নেশা করার জন্য ছেলেদের কাছে টাকা চাইতো। টাকা না দিলেই অশান্তি চরমে উঠতো। সম্প্রতি তাদের রান্না ঘরও ভেঙ্গে দিয়েছে। গত তিন দিন ধরে বাড়িতে রান্না করতে দেয় না। এদিন ফের গালিগালাজ শুরু করতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাশের বাড়ি চলে যাই ছোট বৌমাকে সঙ্গে নিয়ে। প্রতিবেশীদের কাছে জানতে পারি বাড়ির সামনে আগুন জ্বলছে। ছুটে গিয়ে দেখি স্বামী দেহ। তবে এর জন্য বড় ছেলে যে দায়ী সে কথা তিনি অস্বীকার করেছে।

পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে এই ঘটনার পেছনে মৃত মোহরবাবুর বড় ছেলে আশানুর গোলাদার জড়িত। ঘটনার রাতেই বড় ছেলে আশনুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশি জেরায় আশানুর স্বীকার করেছে বাবার অত্যাচার সহ্য করতে না পেড়ে গুলি করে খুন করে গাঁয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সে। ধৃতকে রবিবার বনগাঁ আদালতে তোলা হয়।

