সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৭ জুলাই: সাত সকালে স্ত্রীকে ঘরে একা পেয়ে খুন করে চম্পট দিল স্বামী। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার দেবগড় এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম, রিম্পা হালদার (১৯)। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বন্ধ ঘর থেকে রিম্পার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। সাত সকালে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বনগাঁ জুড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর দেড়েক আগে রিম্পার সঙ্গে বনগাঁ নাগপাড়ার বাসিন্দা সবুজ রায় ভালোবাসা করে বিয়ে করে। বছর ঘুরতে না ঘুরতে তাদের প্রায় অশান্তি হত। সেই কারণে বেশ কয়েক বার বাপের বাড়িতে চলে আসে রিম্পা। সম্প্রতি ফের স্বামী ও শাশুড়ি রিম্পাকে মারধর করে বলে অভিযোগ। তারপর থেকে বাপের বাড়িতেই ছিল রিম্পা।
রিম্পার বাবার সন্তোষ হালদার বলেন, এদিন সকালে মেয়ে রিম্পা সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে পুজোর ফুল তুলে ফের ঘুমাতে যায়। সাড়ে ছটা নাগাদ রিম্পার মা ও বাবা মাঠে কাজ করতে বাড়ি থেকে বের হয়। সেই সময় মেয়ের সঙ্গে কথাও বলে যান রিম্পার মা। সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেয় রিম্পা খুন হয়েছে।

প্রতিবেশী বাসনা বিশ্বাস বলেন, এদিন সকালে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে মোবাইলের রিং বাজার শব্দ আসলেও মোবাইল রিসিভ করছিল না রিম্পা। বারবার ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে অবশেষে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢোকে পরিবারের লোকেরা। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে রিম্পা দেহ। এরপর পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় রিম্পাকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
জামাই সবুজ রায় ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন রিম্পার বাড়ির লোকজন। তাঁদের অভিযোগ সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে মেয়েকে খুন করে পালিয়েছে জামাই। অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে নাগপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ সবুজ রায়কে গ্রেফতার করে।

