অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৩১ জানুয়ারি:
এসআইআর-এ শুনানীর ডাক পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা শাসক দলের জনপ্রতিনিধি ডঃ হুমায়ুন কবীর সামাজিক মাধ্যমে তোপ দেগেছেন। তাঁর সমর্থনে পৃথক পোস্ট লিখে তাঁর নামাঙ্কিত ‘ফ্যান ক্লাব’ প্রচার করছে। কিন্তু নেটনাগরিকদের একটা বড় অংশ সেই স্রোতে গা ভাসাতে রাজি নন। তাঁরা পাল্টা বিরোধিতা করেছেন হুমায়ুন কবীরের।

৩০ জানুয়ারি ডঃ হুমায়ুন লিখেছেন, “আমি SIR এর হিয়ারিং নোটিশ পেলাম। আজ আমাকে যেতে হবে DPS, Ruby Park স্কুলে। আমার ভোটার ID, PAN এবং Passport ও যথেষ্ট মনে হয়নি ECI এর, কারণ আমার নাম ২০০২ সালে ভোটার লিস্টে ছিল না। আমি ওই সময় Ministry of External Affairs এর নির্দেশ অনুসারে UN Deputation এ ইউরোপে কাজ করছিলাম, আমার Diplomatic Passport কপি ও আছে। জয়তু ECI😊😊What a mockery!!!🙁 শেষ পর্যন্ত আমার IPS এর appointment letter এবং PPO দিয়ে ভোটার লিস্টে নাম তুলতে পারি কিনা দেখি😳kiya kehna, ECI তুঝে সলাম।”
পোস্ট করার ১৭ ঘন্টা বাদে, শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় তাঁর নিজের পোস্টে ২৭টি প্রতিক্রিয়া। তাঁর ‘ফ্যান ক্লাব’-এর পোস্টে ১৬৮টি মন্তব্য। তাতে হুমায়ুনের সমর্থকরাও যেমন আছেন, তেমনই আছেন তাঁর অভিযোগকে নস্যাৎ করার মত নেটনাগরিকরাও। সমর্থকদের সিংহভাগ একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের।
প্রতিক্রিয়ায় হিমব্রত বসু লিখেছেন, “আপনি আপনার দিদিকে জিজ্ঞেস করুন। ২০০৫ সালে উনি লোকসভায় চিৎকার করে বলেছিলেন এস আই আর- এর প্রয়োজনীয়তা আছে।” অরিত্র মিদ্যা লিখেছেন, “ভুল কি? যেতে হবে, যতবড় হনু আপনি হন কেন!”

শৈলেন্দ্রনাথ দাস লিখেছেন, “আপনি এমন কেউ নন গণতান্ত্রিক নির্বাচনে…. আপনার আর একজন রিক্সাওয়ালার একটা করে ভোট। আপনাকে ডেকেছে ডকুমেন্ট দেখিয়ে সঠিক দায়িত্বশীল নাগরিকের কাজ করবেন। যেটা আপনি চাকরি জীবনে করেছেন।”
অনুপ আচার্যি লিখেছেন, “সবই ঠিক আছে স্যার। সবই বুঝলাম। আইপিএস অফিসার ছিলেন। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, ইউজি, পিজি সবই তো করেছেন। পেনশন পেমেন্ট অর্ডারই কেন দিতে হবে? একটু বেশি লোকদেখানো হয়ে গেল না। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট চলবে না বলেছে। সার্টিফিকেট তো চলবে না বলেনি? ইউনিভার্সিটির সার্টিফিকেট তো চলবে না বলেনি। আপনারা নেতারা বড্ড বেশি শো অফ করেন।”
‘রকনপিড নেয়ক’ নামের একজন লিখেছেন, “আমার তো মনে হয় ভালো process. Vvip, vip-রা সবসময় স্পেশাল ছাড় পাবে আর সাধারণ মানুষরা সবসময় harrasment কেন হবে? সংবিধানের আর্টিকেল 14 এই একটাই জায়গায় সঠিক vabe প্রয়োগ হল।”
জয় চন্দ্র লিখেছেন, “পুরো প্রক্রিয়াটি বানচাল করার জন্য পিসির কেরামতির ফল।” ‘পার্থ পার্থ’ লিখেছেন, “এতে বোঝা যায় আমলারা ঠান্ডা ঘরে বসে এমন কিছু করে সবাই চাপে পড়ে যায়, ভারতীয় পরিকাঠামো আই এ এস বা আপিএস হলো কুলীন ব্রাহ্মণ, ডাব্লুবিসিএস- রা ব্রাক্ষ্মণ, আর বাকিরা সব ছোট্ট খাট্টো, অনেকেই নোটিশ পেয়েছেন কিন্তু কেউ কেউ পদের গর্বে সেটাকে পোস্ট করে কিছু বার্তা দিচ্ছেন।”
শেখ নুরুল হাসান লিখেছেন, “আচ্ছা একটা কথা বলব আপনার শুনানি দেখাচ্ছে ৩০ জানুয়ারি আর আপনি ৩০ তারিখই নোটিশ পেলেন?” চন্দন ভট্টাচার্য লিখেছেন, “নামের মিসম্যাচ হওয়ার জন্য আপনাকে ডেকেছে। ECI- এর চোখে পড়েছে বেশ কিছু ERO ও AERO যারা রাজ্য সরকারি কর্মচারী তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য ব্যক্তির নাম BLO দের দিয়ে ভুল ভাল আপলোড করিয়েছে ECI কে হেয় প্রতিপন্ন করতে। এগুলো শাসক দলের নির্দেশে করা হয়েছে সেটা পরিষ্কার। আপনার মতো অনেককেই এভাবে নোটিস পাঠানো হয়েছে। শাসক দল মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে যেভাবেই হোক SIR কে ভন্ডুল করে দিতে। সেটা আপনাদের মতো উচ্চ শিক্ষিতরা ঠিক বুঝতে পারছেন।”

