আমাদের ভারত, ১১ ফেব্রুয়ারি:ভারতবর্ষের কৃষি আন্দোলন ও কৃষি আইন নিয়ে একের পর এক গুজব টুইটার ছড়িয়ে চলেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন যে হিংসার ঘটনা ঘটে রাজধানীতে তার ভূমিকাও তৈরি হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমেই। আন্দোলনরত কৃষকদের আত্মহত্যার খবরের ক্ষেত্রেও অর্ধসত্য বা অসত্য তথ্য বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে ভারতের আভ্যন্তরীণ শান্তির পরিবেশ নষ্টের ক্ষেত্রে টুইটার ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মত কেন্দ্রীয় সরকারের। আর সেই জন্যই রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ।
টুইটারের উদ্দেশ্যে রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “ভারতে আপনাদের কয়েক কোটি ফলোয়ার আছে, আপনারা এখানে স্বাধীনভাবে ব্যবসা করছেন। কিন্তু ভারতের সংবিধানও আপনাদের মেনে চলতে হবে। আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় সোশ্যাল মিডিয়া। আজকের সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া সাধারণ মানুষের শক্তি। কিন্তু সেই সোশ্যাল মিডিয়া মিথ্যে খবর ও হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করলে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব।”
২৬ জানুয়ারি রাজধানীতে তাণ্ডবের ঘটনার পর টুইটারকে ১৩০০ হ্যান্ডেল বন্ধ করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র সরকার। এরমধ্যে দেশের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদদের অ্যাকাউন্ট ছিল। দেশের আইটি আইন মনে করিয়ে ভারত সরকার একটি নোটিশ পাঠিয়েছিল টুইটারকে। কেন্দ্রে তরফে বলা হয়েছিল ভারতে ব্যবসা করতে হলে এদেশের আইন মেনে চলতে হবে তাদের। যদিও টুইটারে তরফে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়। টুইটার জানায়, এভাবে কারো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়াটা গণতন্ত্রবিরোধী। এক্ষেত্রে টুইট ব্লক করা যেতে পারে অথবা অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা যেতে পারে। কিন্তু অ্যাকাউন্ট পাকাপাকি বন্ধ করা যায় না। টুইটার আরো জানায় এমন কিছু হ্যাশট্যাগ সমেত শব্দ যা হিংসা ছড়াতে পারে সেগুলি আটকানোর জন্য তারা নতুন গাইডলাইন আনবে। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে এই সব দাবি মানা হয়নি। ফলে টুইটার ও কেন্দ্রের এই বিরোধ খুব সহজে মিটবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

