আসানসোল-বর্ধমান রুটে যাত্রীবাহী বাসে কয়লা পাচার, অন্ডালে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার বস্তা বস্তা কয়লা

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২২ সেপ্টম্বর: বেআইনি চোরাচালান ঠেকাতে বিভিন্ন সড়কে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। চলছে ধরপাকড়। অথচ খোদ জাতীয় সড়কের ওপর নজরদারিতে উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছিল। আর সেই সুযোগে মোটা টাকা মুনাফা আসায় জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে যাত্রীবাহী বাসেই চলছিল অবৈধভাবে কয়লা পাচার। শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসল আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট পুলিশ। বৃহস্পতিবার অন্ডাল মোড়ে অভিযান চালাতেই বাসের ছাদ থেকে উদ্ধার হল বস্তা বস্তা কয়লা।

আর তাতেই বেআইনী কয়লা পাচার নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে। তেমনই প্রশ্ন উঠেছে, পরিবহন দফতর ও পুলিশের নজরদারিতে। এমনই ছবি ধরা পড়ল ১৯ নং জাতীয় সড়কের ওপর আসানসোল- বর্ধমান রুটে।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ বালি কয়লা পাচার বন্ধে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। রাস্তার ওপর কড়া নজরদারি চলছে। একই সঙ্গে রাস্তার ওপর ওভারলোডিং যানবাহন চলাচল ঠেকাতে শুরু হয়েছে কড়া নাকা চেকিং। ১৯ নং জাতীয় সড়কের প্রায় সব ক’টি থানা এলাকায় একাধিক নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। এছাড়ও ওভারলোডিং রুখতে পানাগড়- মোরগ্রাম সড়ক, দুর্গাপুর বাঁকুড়া সড়কেও চলছে কড়া নজরদারি। একই সঙ্গে লরি ডাম্পারে অবৈধ বালি- কয়লা পাচার রুখতে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। খনি অঞ্চল থেকে কয়লা পাচারে এবার যাত্রীবাহী বাসকে ব্যবহার শুরু করল মাফিয়ারা। লোকাল বাসের ভেতর, ডিকিতে, বাসের ছাদে বস্তা ভর্তি করে অবাধে চলছে কয়লা পাচার। তাও আবার ১৯ নং জাতীয় সড়কের আসানসোল-বর্ধমান রুটে।

আসানসোল-বর্ধমানগামী বেশ কিছু লোকাল বাসে বস্তা ভর্তি কয়লা চাপানো হচ্ছে। কয়লার বস্তা চাপানোর জন্য বাসের সামনের ও পিছনের কয়েকটা সিট খুলে দেওয়া হয়েছে। আবার কোনো বাসের ছাদে, ডিকিতে ঠাসা কয়লার বস্তা চাপানো হচ্ছে। ছাদের ওপর কয়লার বস্তা ত্রিপল দিয়ে ঢাকা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাসের ভেতরের কয়লার বস্তাও কাপড় দিয়ে ঢাকা দেওয়া হচ্ছে। আর ওইসব কয়লা বেশিরভাগ চাপানো হয় খনি অঞ্চলের রানীগঞ্জ জেকে নগর, মঙ্গলপুর, অন্ডালের কাজোড়া মোড় সহ বেশ কয়েকটি লোকাল স্টপেজে। আর সেখান থেকে জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে পুলিশের নাকা চেকিংকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বর্ধমানে। সেখানে কিছু এলাকায় ডিপো তৈরী হয়েছে। আর সেখান থেকে ছোটো শিল্প কারখানায়, বিভিন্ন হোটেল, খাবারের দোকানে ওইসব কয়লা যাচ্ছে।

বর্ধমান বাস মালিক সমিতির পক্ষে তুষারকান্তি ঘোষ বলেন, “যাত্রীবাহী বাসে এধরনের পন্য চাপানোর আমরা বিরেধী। যাত্রীরা যাতে ঠিকমতো যাতায়াত করতে পারে সে বিষয়টি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো বাস এধরনের বেআইনি কাজ করে সেটা তার ব্যক্তিগত। সংগঠন এসব অনৈতিক কাজ সমর্থন করে না।”

জানা গেছে, জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি। সেভাবে বাস ভাড়া বর্ধিত হয়নি। সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে যাত্রী যেমন কমছে বাসে। তেমনই লোকসানে জর্জরিত বাস মালিকরা। ইতিমধ্যে বহু মালিক তাদের বাস বিক্রি করে দিয়েছে। অনেকে খরচের বহর বেড়ে যাওয়ায় বাস চালানো বন্ধ করেছে। মুনাফার আশায় এভাবে অবৈধভাবে কয়লা ভর্তি বস্তা যাত্রীবাহী বাসে নিয়ে যেতে বাধ্য হয় বাসকর্মচারীরা। প্রশ্ন, যাত্রীবাহী বাসের ভেতর যাত্রী সাছন্দ্যকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কিভাবে বেআইনী পণ্য পরিবহন করছে? যদিও খবর চাউর হতেই নড়েচড়ে বসে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট পুলিশ।বৃহস্পতিবার ১৯ নং জাতীয় সড়কের অন্ডাল মোড়ে অভিযান শুরু করে অন্ডাল ট্রাফিক গার্ড পুলিশ। তখনই আসানসোল-বর্ধমান একটি যাত্রীবাহী বাসে বাজেয়াপ্ত হয় ৩০ বস্তা কয়লা। বাজেয়াপ্ত কয়লা তুলে দেওয়া হয় অন্ডাল পুলিশের হেফাজতে। এবং বাসটিকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে জরিমানা ধার্য করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কোথা থেকে কয়লা উঠছে, কে বা কারা এই কয়লা পাচার কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তার তদন্ত শুরু করেছে অন্ডাল থানার পুলিশ। 

এবিষয়ে দুর্গাপুর এআরটিও’র পক্ষে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অন্ডাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, “জাতীয় সড়কের ওপর বিপদজ্জনকভাবে যাত্রীবাহি বাসে বস্তা ভর্তি কয়লা নিয়ে যাচ্ছিল। নজরে পড়তে ঐ বাসটিকে আটক করে ৩০ বস্তা কয়লা বাজেয়াপ্ত হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *