আমাদের ভারত, ২২ ডিসেম্বর: সেনার গোপনীয় তথ্য পাকিস্তানে পাঠানোর অভিযোগে বুধবার শিলিগুড়ি থেকে গুড্ডু কুমার নামে বিহারের এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ শাখা। জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে টোটো চালক গুড্ডু আসলে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট।
বিহারী চম্পারনের বাসিন্দা গুড্ডুকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতে পেশ করেছিল। আদালত তাকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার ধৃতকে শিলিগুড়ির ভরতনগর এলাকার দেবাশীষ কলোনিতে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে যে বাড়িতে গুড্ডু থাকত সেখানে একটা ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালায় পুলিশ কর্তারা।
গুড্ডুকে যে অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে তারপর কোনোরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না ভারতীয় সেনা আধিকারীকরা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আর্মি ইন্টেলিজেন্সের তরফেও ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিজের সম্পর্কে তথ্য গোপন করে ওই এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল আইএসআই এজেন্ট গুড্ডু। ৮০০ টাকার বিনিময়ে ঘর ভাড়া নিয়েছিল অভিযুক্ত গুড্ডু। জানা গিয়েছে, দু’বছর ধরে দেবাশিস কলোনি এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতো গুড্ডু।
এক বছর ধরে সঞ্জয় কুমার সুশীল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া ছিল সে। ওই বাড়িতে একাই থাকতো সে। সেনার তথ্য জোগাড়ের জন্য টোটো চালকের পেশাকে বেছে নেয় গুড্ডু। বাড়ির মালিকের টোটো চালাতো সে। মূলত নিউ জলপাইগুড়ি এলাকাতেই গুড্ডুর টোটো চলত। টোটো নিয়ে শিলিগুড়ির আশেপাশে সেনা ক্যাম্পের সামনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করতো গুড্ডু। যাত্রী তোলার বাহানায় টোটো নিয়ে শিলিগুড়ির পাশে ব্যাঙডুবি, শুকনা সেনা ক্যাম্পের সামনে যাতায়াত করেছে গুড্ডু।
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতো সে বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ আধিকারিকরা। বাড়ির মালিক সঞ্জয় কুমার সুশীল জানান, গুড্ডু তাদের জানিয়েছিল সে বিহারে পড়াশোনা করেছে। বাবা-মা, ভাই, সন্তানের কথা গোপন করেছে সে। বাড়ির মালিক বলেন, “কখনো সন্দেহ হয়নি ওর উপর। এখনো আমরা বিশ্বাস করতে পারিনি। আমাদের খালি বলতো যে আমি ব্যবসা করতে চাই। শিলিগুড়িকে খুব ভালো করে চিনতে চাই। কারণ এখানে ব্যবসা করলে অনেক লাভ হবে।”

