আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১৫ নভেম্বর: পঞ্চায়েত ভোটের আগে নিজ নিজ কৌশলে ঝাড়গ্রামে জনসংযোগ শুরু করলো বিজেপি তৃণমূল। জেলায় গিয়ে গ্রামের মানুষের সাথে মিশে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রীকে বহুবার দেখেছে রাজ্যবাসী। আবার শেষ কয়েকটা নির্বাচনের ছবিতে উঠে এসেছে বিজেপি নেতাদের বিভিন্ন স্তরের মানুষের বাড়িতে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ সারার ঘটনা। নিজ নিজ দুই পুরনো কৌশলকেই পঞ্চায়েত ভোটের আগে ফের জনসংযোগের কাজে লাগাতে শুরু করল তৃণমূল বিজেপি। মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামে মমতা সুকান্তর হাত ধরে দুই দলের জনসংযোগের উষ্ণ ছবি দেখলো রাজ্যবাসী।

আদিবাসী নেতা বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করেছিল। অন্যান্য বছর এইদিনে রাজ্য সরকার কর্মসূচিও নেয়। এবার আগেই ঠিক ছিল ঝাড়গ্রাম সফরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভা শেষ করে ফেরার পথে হঠাৎই ঢুকে পড়েন আদিবাসী গ্রামে। কথা বলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। সেখানে তাদের চাওয়া পাওয়া জানতে চান তিনি। নিজে আশ্বস্ত করেন। দার্জিলিংয়ে গিয়ে মোমো বানাতে দেখেছিলাম মমতাকে। চায়ের দোকানে গিয়ে চা বানাতেও দেখা গেছে তাকে। আজ দেখা গেল তেলেভাজার দোকানে গিয়ে চপ বিলি করতে। আদিবাসী গ্রামে ঢুকে একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সেই পরিবারেরই এক তিন মাসের শিশুকে কোলে তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী। মুহূর্তে সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

অন্যদিকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের জনসংযোগের উষ্ণ ছবিও ধরা পড়েছে ঝাড়গ্রামের অন্য প্রান্ত গোপীবল্লভপুরে। সেখানে গিয়ে জনজাতি গৌরব দিবসের সভার আগে একটি আদিবাসী পরিবারে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ সারেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। একাধিক ছবি তোলেন। সাধারণ খাটিয়াতে বসে গল্প করেন বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে। কাঁচা পাতার থালায় বাবু হয়ে বসে ভাত খান সুকান্ত মজুমদার। ছবিতে দেখা যায় একটি ছোট্ট আদিবাসী মেয়ে তার কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সুকান্তর স্নেহের হাত তার কাঁধে।

রাজ্যের দুই যুযুধান দলের শীর্ষ নেতাদের আদিবাসী শিশুদের প্রতি এই স্নেহ ঘেরা জনসংযোগ পঞ্চায়েতের পারদ চড়িয়েছে তা বলাই যায়।

রাষ্ট্রপতি দৌপদী সম্পর্কে রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির মন্তব্য ঘিরে উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। মন্ত্রীর অপসারণ চেয়েছে পদ্ম শিবির। ৭২ ঘণ্টা পরে হলেও নিজে ক্ষমা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেখানে বড় অংশের ভোটার আদিবাসী সমাজ। তাই আদিবাসীরা রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই দুই দলের দুই শীর্ষ নেতৃত্ব একই দিনে একই জেলার দুই প্রান্তে আদিবাসী পরিবারের সাথে নিবিড় জনসংযোগের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করলেন মা কিনা আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিল।


