আকাশছোঁয়া সরেষের তেল, প্রদীপ বিক্রিতে সঙ্কট,  দীপাবলিতে আশার আলো দেখছে না কুমোরপাড়া

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩০ অক্টোবর: দফায় দফায় নিম্নচাপ। তার ওপর সরেষের তেল ও জ্বালানীর অস্বাভাবিক মুল্যবৃদ্ধি। যদিও চায়না আলো ঠেকাতে রাস্তায় নেমেছেন স্বদেশপ্রেমীরা। দেশজুড়ে দীপাবলিতে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ করতে জোর তৎপরতা। তার ওপর করোনাআবহের লকডাউনে আত্মনির্ভরতার স্বপ্নে যখন বিভোর। তখন সরেষের তেলের ঝাঁজে প্রদীপ জ্বালাতে কপালে ভাঁজ পড়েছে আমজনতার। আর তাতেই ভাটা পড়েছে প্রদীপ বিক্রিতে। নিম্নচাপ কাটিয়ে রোদ উঠলেও, আশার আলো দেখছেন না শিল্পাঞ্চলের কুমোরপাড়ার মৃৎশিল্লীরা। 

গত একদশক চীনা আলো গ্রাস করেছিল এদেশের সমস্ত বাজার। নিত্য নতুন নানান ডিজাইনের সস্তার রঙিন আলোর অস্বাভাবিক বাজার তৈরী হয়েছিল। তার ফলে স্বদেশের মাটির তৈরী প্রদীপের কদর কমেছিল। চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছিল কুমোর পাড়ার কারিগরদের। সম্প্রতি চীনা আলোর ব্যবহার বন্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় নতুন করে মাটির প্রদীপ তৈরীর বরাত পাচ্ছে দুর্গাপুর, অন্ডাল, পান্ডবেশ্বর, বুদবুদ ও পানাগড়ের কুমোরপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। বরাত পেলেও দফায় দফায় নিম্নচাপে প্রদীপ সহ দীপাবলির অন্যান্য মাটির উপকরন তৈরীতে বাধার সৃষ্টি করেছে। লকডাউনের রেশ কাটার আগেই লাগামছাড়া মুল্যবৃদ্ধি। চাল, ডাল থেকে সরেষের তেল এমনকি জ্বালানী কয়লা, গ্যাসেরও। ফলে নাভিশ্বাস দশা সাধারন মানুষের। সব থেকে বেশী সঙ্কটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়।

বুদবুদ, পানাগড় বাজারে ১৫টির মতো কুমোর পরিবার রয়েছে। তাদের একমাত্র জীবীকা মাটির জিনিস তৈরী। বুদবুদের মৃৎশিল্পী প্রদীপ পন্ডিত। তিনি বলেন, ‘নিম্নচাপের দরুন প্রদীপ তৈরীতে বাধা হয়েছিল। তারপর রোদ উঠলেও আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। প্রদীপ জ্বালতে সরেষের তেলের প্রয়োজন। গত বছর এরকম সময় সরেষের তেল ১০০ টাকা কেজি ছিল। একবছরে দ্বিগুনেরও বেশী দাম হয়েছে। লকডাউনের পর সঙ্কটময় পরিস্থিতি। কোথাও যেন তার প্রভাব পড়ছে।” তিনি বলেন, “অন্যান্য বছর ৫৫ থেকে ৬০ হাজার প্রদীপ বিক্রি করেছি। এবছর ২৫ হাজার বরাত পেয়েছি। পাইকারি দোকানে অন্যান্য বছরের তুলানায় আর্ধেকেরও কম প্রদীপ নিচ্ছে। জ্বালানি কয়লা ও গ্যাসের অস্বাভাবিক মুল্যবৃদ্ধি। খরচ বেড়েছে। সরকারি তেমন কোনও সহায়তাও জোটেনি। সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। তাই আমারা আজ গভীর সঙ্কটে পড়েছি।”

সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার বলেন,” মাটির প্রদীপ কিনলেও সাধারন বহু মানুষের সরেষের তেল কেনার সামর্থ নেই। লাগামছাড়া মুল্যবৃদ্ধির দরুন কার্যত প্রদীপের নীচে অন্ধকার।” প্রদেশের কংগ্রেসের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, “মুল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থ কেন্দ্রে সরকার। আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন দেখাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। সরেষের তেলের অস্বাভাবিক দামের জন্য মানুষ প্রদীপ কিনতে ভয় পাচ্ছে। কার্যত আত্মনির্ভরতার সেই স্বপ্ন মাটির প্রদীপের তলায় থেকে গেছে। কুমোরপাড়ায় আশার আলো দেখাচ্ছে না।” দুর্গাপুরের পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই অবশ্য মুল্যবৃদ্ধি স্বীকার করে জানান, “জ্বালানি তেলের মুল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে। দ্রব্যমুল্যবৃদ্ধিতে গরিবমানুষের কষ্ট হচ্ছে। জ্বালানিতেলে জিএসটি লাগু হলে দাম অনেকটাই কমবে। তখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও কমতে শুরু করবে। রাজ্য সরকারের উচিত জ্বালানিতেলে জিএসটি লাগু করতে সহযোগিতা করা।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *