সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৮ মার্চ: পরিত্যক্ত বাড়ির ভিতর থেকে নরকঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দেয় বাঁকুড়া শহরে। বাঁকুড়া শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বড় কালীতলা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ কঙ্কাল উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে বড় কালীতলার ওই বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাড়ির মালিকরা তিন বছরেও বেশি সময় ধরে ওই বাড়িতে আসেননি। বাড়ি ফাঁকা থাকার কারণে তা ক্রমশ দুষ্কৃতীদের আখরায় পরিণত হয়েছে। বাড়ির দরজা জানলাও অনেকে খুলে নিয়ে চলে গিয়েছে। বন্ধ বাড়ির ভীতরে অদ্ভূত ধরণের আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁরাই সেখানে নরকঙ্কালের সন্ধান পান বলে জানা গিয়েছে।
এদিন বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নরকঙ্কালের পাশাপাশি বাইরে পড়ে থাকা একটি সিন্দুকও উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়ছেন, এক সময় এই বাড়িতে প্রচুর মানুষ বাস করতেন। এলাকায় ‘সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যশালী পরিবার’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন এই বাড়ির বাসিন্দারা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত চায়ের কাপ, নেতাজির স্মৃতি জড়িত চেয়ার এই বাড়িতেই রয়েছে বলে তাঁরা শুনেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বাড়ি আজ পরিত্যক্ত। ফাঁকা বাড়ি ক্রমেই দুষ্কৃতীদের আখরায় পরিণত হয়েছে। নরকঙ্কালটি বাইরে থেকে আনা হয়েছিল, নাকি এখানেই কাউকে খুন করা হয়েছিল তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
কঙ্কাল উদ্ধারের পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি কার তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কে বা কারা কোন উদ্দেশে সেটি এখানে এনেছিল তাও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পরিত্যক্ত অবস্থায় সাত থেকে আট বছর ধরে বাড়িটি পড়ে রয়েছে। বাড়ির মালিকরা শেষবার তিন বছর আগে এসেছিল। এখানে প্রতিদিনই দুষ্কৃতীরা ঢোকে। বাড়ির সব কিছু চুরি হয়ে গিয়েছে। স্হানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এখানে কোথা থেকে কঙ্কাল এলো তা খতিয়ে দেখুক পুলিশ। দোষীদের গ্রেফতার চাই।

