অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ২ জুলাই:
মাওবাদীদের নাম করে হুমকি চিঠি ও পোস্টার দেওয়ার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মী সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করল ঝাড়গ্রাম পুলিশ। অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, একটি পিস্তল, ৩৫ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। শনিবার ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই তথ্য জানালেন ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা।
জানা গেছে, অভিযুক্তরা হল জামবনী থানার হোমগার্ড বাহাদুর মান্ডি এবং শংকর মণ্ডল, মলয় কর্মকার, মহেন্দ্র হাঁসদা, বাবলু দুলে, বাবুলাল সোরেন। এদের প্রত্যেককে নিজেদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো জানা গিয়েছে, এরা মাওবাদী ইনচার্জ, সল্টলেক নামে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে টাকার দাবি করে হুমকি চিঠি পাঠিয়েছিল। মাওবাদীদের নাম করে একাধিক পোস্টারও দিয়েছিল। সবটাই করা হয়েছিল মাও আতঙ্ক ছড়িয়ে টাকা তোলার জন্য। এই সমস্থ কিছুর মাস্টার-মাইন্ড ছিল হোমগার্ড বাহাদুর মান্ডি। পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা আরো বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আরও একজন জড়িত রয়েছে। তাকেও খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।
প্রসঙ্গত এর আগে মাওবাদী পোস্টার দেওয়ার অভিযোগে লালগড় থেকে গ্রেফতার হয়েছিল আরও এক পুলিশ কর্মী। সে পুলিশের স্পেশাল হোমগার্ড ছিল বলে জানা গেচ্ছে। সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছিলেন আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মী। বিগত কয়েক মাস ধরেই আতঙ্ক বাড়ছিল ঝাড়গ্রামজেলা জুড়ে। বারংবার মাওবাদী পোস্টার পড়ছিল। এমনকী কয়েকদিন আগে মাওবাদীদের নাম করে দেদার তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল ঝাড়গ্রামে। গত ১৮ জুন, বিনপুর-২ ব্লকের তিনজন তৃণমূল নেতা হুমকি চিঠি পান। লাল কালিতে লেখা চিঠিতে নিজেকে মাওবাদী সংগঠনের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে ২ লক্ষ টাকা চায় মাওবাদী পার্টি তহবিলের জন্য। এই তিনজনের একজন শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্য। বাকি দু’জন এঁড়গোদা পঞ্চায়েত এলাকার শিয়ারকেত্যা এবং ভুরসাতোরা গ্রামের দুই রেশন ডিলার। চিঠি পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছেন ওই তিনজনের পরিবার। সূত্রের খবর, তিনজনেই জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের গোটা বিষয়টি জানিয়েছলেন।

