স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর: ঝাড়খণ্ড থেকে লক্ষ্ণৌগামী পরিযায়ী শ্রমিক বোঝাই বেসরকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেল নয়নজুলিতে। এই ঘটনায় ৬ জন মারা গেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ডুবন্ত বাসে আরও কেউ আছে কিনা তা এখনও জানা যানি। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার রূপাহারে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ও রায়গঞ্জ দমকল বাহিনী।
নয়নজুলিতে পড়ে থাকা বাসে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং দমকল বাহিনীর কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরাও। উদ্ধারকারীরা বাস থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বের করে দ্রুত রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা করে। দুর্ঘটনাস্থলে যান জেলা পুলিশ প্রশাসনের কর্তারাও।

বাসে থাকা এক পরিযায়ী শ্রমিক জানিয়েছেন, পুরো বাস ভর্তি ছিল। ১২/১৩ জন শিশুও ছিল ওই বাসে। কতজন মারা গিয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন কিছুই বলতে পারছেন না তিনি। তবে গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষ্ণ মন্ডল নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক। দুর্ঘটনা ঘটার একটু আগেই জাতীয় সড়কের উপর অন্য একটি গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগার পরই নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বাসটি রূপাহার সেতু থেকে নীচে নয়নজুলিতে উল্টে যায়। পুলিশ, দমকলকর্মী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের সাথে স্থানীয় বাসিন্দাও হাত লাগান উদ্ধার কার্যে। পরে ক্রেন দিয়ে কিছুটা তোলার পর ডুবন্ত বাসের মধ্যে একাধিক মৃতদেহ আছে বলে জানা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখনো পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছয়। গুরুতর আহত দুইজন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গাড়িটিকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার মহঃ সানা আখতার, মহকুমাশাসক অর্ঘ ঘোষ সহ অন্যান্য আধিকারিকরা ছুটে আসেন। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্টার পর গাড়িটিকে নয়নজুলি থেকে উদ্ধার করে।

