আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৯ সেপ্টেম্বর: ছ’দিন পর পুণ্যার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হল তারাপীঠ মন্দির। প্রথম দিনেই মন্দিরে উপচে পড়া ভিড়। কৌষিকী অমাবস্যায় পুজো দিতে আসা পুন্যার্থীরা এদিন মা তারার পুজো দিয়ে খুশি।
প্রতি বছর কৌষিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। করোনা অতিমারির কারণে গত বছর থেকেই প্রশাসনের অনুরোধে তারাপীঠে ওই বিশেষ দিনে মন্দিরের দরজা পুণ্যার্থীদের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় মন্দির কমিটি। এনিয়ে জেলা প্রশাসন মন্দির কমিটি, অটো, টোটো, এবং লজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় ৩ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুণ্যার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে মন্দিরের দরজা। আগাম প্রচার হওয়ায় বাংলার পুণ্যার্থীরা ওই ছ’দিন কার্যত তারাপীঠ মুখো হননি। রামপুরহাট ষ্টেশনে বিগত কয়েক বছরের সেই সমাগম লক্ষ্য করা যায়নি। তবে ঝাড়খণ্ড এবং বিহার রাজ্যে প্রচারের অভাবে বহু পুণ্যার্থী চলে আসেন। তারা তারাপীঠে ঢুকতে না পেরে রামপুরহাটের বিভিন্ন হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এদিন মা তারার পুজো দিয়ে ফিরে যান।

মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব সাহা বলেন, “করোনা অতিমারির কারণে প্রশাসনের অনুরোধে মন্দির পুণ্যার্থীদের জন্য বন্ধ ছিল। তবে বিশেষ পুজো হয়েছে নিয়ম মেনেই। বৃহস্পতিবার মন্দির পুণ্যার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বহু পুণ্যার্থী এদিন মা তারার পুজো দিয়ে মনস্কামনা পূরণ করেন। তবে করোনা বিধি মেনেই এদিন তাঁরা পুজো দিয়েছেন। মাস্ক ছাড়া কাউকে মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পাশাপাশি মন্দির কমিটির নিরাপত্তারক্ষীরাও এবিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রেখে চলেছেন।”
ছ’দিন পর মন্দিরে পুজো দিয়ে খুশি বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা অনিল যাদব ও তাঁর পরিবার। অনিলবাবু বলেন, “কৌষিকী অমাবস্যায় পুজো দেব বলে মঙ্গলবার এসেছিলাম। কিন্তু মন্দির বন্ধ থাকায় রামপুরহাটের একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়ে এদিন পুজো দিলাম।”

