আমাদের ভারত, ২৮ জুন: করোনার মতো অতিমারীর ফলে সঙ্কটে পড়েছে অর্থনীতি। তাই সেই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আটটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানালেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব এবং প্রান্তিক মানুষের সাহায্যে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে। জোর দেওয়া হবে কর্মসংস্থানে।
করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর মে মাসে কুড়ি লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল মোদী সরকার। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল গরিব কল্যাণ যোজনা। সোমবার অর্থমন্ত্রী জানান, এখনোও পর্যন্ত গরিব পরিবারগুলিকে খাদ্য দিতে ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা খরচ করেছে কেন্দ্র। আগামী দিনেও এই কর্মসূচি জারি থাকবে। পাশাপাশি পুষ্টিযুক্ত খাদ্য সরবরাহের জন্য পৃথকভাবে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন তিনি।
গত বছর প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আত্মনির্ভর ভারত রোজগার যোজনার সময়সীমাও ২০২২-র ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অতিমারী পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পক্ষেত্রগুলির জন্য এক লক্ষ দশ হাজার কোটি টাকার ঋণ গ্যারান্টি যোজনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে বার্ষিক ৭.৯৫ শতাংশ সুদে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবে শিল্প সংস্থাগুলি। গ্যারান্টার হিসেবে থাকবে কেন্দ্র। সাধারণভাবে এই সুদের হার ৯-১০ শতাংশ থাকে।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। অন্য শিল্পক্ষেত্রগুলির জন্য ৮.২৫ শতাংশ হারে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পর্যটন শিল্পের হাল ফেরাতে বিনামূল্যে ৫ লক্ষ পর্যটন ভিসা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। পর্যটন ক্ষেত্রের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

