আমাদের ভারত, ২৪ নভেম্বর: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তুঙ্গে। কাজের চাপে নাজেহাল হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বহু বিএলও। অতিরিক্ত দায়িত্ব, বাড়তি ডিজিটালাইজেশনের কাজ এবং বাড়তে থাকা চাপের বিরুদ্ধে কয়েকদিন ধরে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অনেকে। এরমধ্যেই সোমবার এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ করল কমিশন।
সোমবার বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে কমিশনের দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ হয়। কমিশনের অফিসের মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখান বিএলও’রা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, যেখানে ১২০০-র বেশি ভোটার রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত বিএলও নিয়োগ করা হবে। এতে কারো উপরই অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, এটা স্থায়ী নয়, বরং সাময়িক জনবল বৃদ্ধি। এর উদ্দেশ্য একটাই,
এসআইআর- এর কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়।
বিএলও’দের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন ফর্ম বিলি গ্রহণের পাশাপাশি সমস্ত তথ্য ডিজিটালে আপলোড করতে হচ্ছে তাদেরকেই। এই বারতি দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অনেকের কথায় ফর্ম দেওয়া, সংগ্রহ ও যাচাই এর ওপর আবার আপলোডের চাপ। সময়সীমা কম, কাজ বেশি।
বিএলও’দের একাংশ সরাসরি জানিয়েছেন, হাজারের ওপরে ভোটার বিশিষ্ট এলাকায় কাজের চাপ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের পক্ষে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সব কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিইও জানান, এখনো পর্যন্ত ৯৯.০৭ শতাংশ ফর্ম বিলির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবু যদি কোনো ভোটার ফর্ম না পান তবে তিনি সরাসরি ই- মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবেন।
সঙ্গে তিনি আরো জানান, প্রতিটি ব্লকে ইআরও বিডিও দপ্তরে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। কোনো সমস্যা থাকলে সেখানেও জানানো যাবে।
একই সঙ্গে কমিশনার জানান, রাজ্যের অধিকাংশ বিএলও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। কাজের বর্তমান গতি দেখে কমিশনের বিশ্বাস, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, যারা মাঠে নেমে কাজ করছেন তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাই। কাজের চাপ থাকলেও বেশির ভাগই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন।
তবে অতিরিক্ত বিএলও নিয়োগের ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি দিলেও মাঠপর্যায়ের বহু কর্মীর মতে, এনুম্যারেশন পদ্ধতিকে আরো স্বচ্ছ ও সহজ করা প্রয়োজন। ডিজিটাল আপলোড প্রক্রিয়ার চাপ কমানো এবং প্রশিক্ষণ বাড়ানো ছাড়া সমস্যা পুরোপুরি কাটবে না।
বিক্ষোভের পরে কমিশনের এই আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা কী হয় সেটা আগামী কয়েক দিনে স্পষ্ট হবে।

