অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৫ জানুয়ারি: রবিবার ছিল জাতীয় ভোটার দিবস। কলকাতায় এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক মূল অনুষ্ঠানে তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। সামাল দিতে সিইও-কে অনেকটা মেনে নিতে হয় এসআইআর কর্মীদের দাবি।
প্রতি বছরই ২৫ জানুয়ারি ভারতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিষ্ঠা দিবসে পালিত হয় জাতীয় ভোটার দিবস। রাজ্যের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে মঞ্চে সম্মানিত করা হয় জেলাশাসকদের। এবার এসআইআর চলছে। জেলাশাসকরা ব্যস্ত। ভোটকর্মীদের ওপরেও তৈরি হয়েছে খুব চাপ।
এবারের দিবসটি উদযাপনের নতুনত্ব বলতে ছিল পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জেলার নানা বিধানসভা কেন্দ্রের দু’জন করে বিএলও এবং একজন করে এইআরও-কে কাজের দক্ষতার জন্য স্বীকৃতিজ্ঞাপন।
আগাম ঘোষণামত প্রতি জেলাশাসককে সিইও দফতর থেকে বলা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট জেলার মনোনীত বিএলও এবং এইআরও-কে কলকাতায় ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে। সেইমতো পাঁচ শতাধিক বিএলও এবং এইআরও এদিন আসেন আলিপুরের সভাকেন্দ্রে।
প্রথম পর্যায়ের ভাষণপর্বের শেষে কিছু মনোনীত বিএলও এবং এইআরও-কে মঞ্চে সাদর অভ্যার্থনা জানিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। একাধিক আলোকচিত্রী ক্যামেরা, মুঠোফোনে ধরে রাখেন সেই দৃশ্য। এর মাঝে কর্তৃপক্ষ মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন, সবাইকে মঞ্চে সম্মানিত করা সম্ভব নয়। একতলায় তৈরি বিভিন্ন জেলার স্টল থেকে পরে স্মারক সংগ্রহ করতে। আর, অনুপস্থিতদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন মারফৎ।
তৎক্ষণাৎ উপবিষ্টদের কয়েকজন প্রতিবাধ করেন। বলেন, আমরা স্টল থেকে নেবো না। অনেক দূর থেকে কষ্ট করে এসেছি মঞ্চ থেকে পুরস্কার নিতে। একজন আবার হালকা স্বরে বলেন, আমরা ছবি তুলতে চাই। তাঁদের দৃঢ় অনুরোধে অস্বস্তিতে পড়েন ভোটকর্তারা। মাইক্রোফোনে যুগ্ম সিইও সুব্রত পাল দাবিদারদের উদ্দেশে বলেন, ঠিক আছে আপাতত যে কার্যক্রম চলছে, সেটার শেষে একটা পথ বার করা হবে।
এর পর সাংস্কৃতিক কার্যক্রম কাটছাঁট করে বিভিন্ন জেলার উপস্থিত বিএলও এবং এইআরও-দের দ্রুততার সঙ্গে মঞ্চে ডাকা হয়। লাইন করে তাঁরা স্মারক নেন সিইও মনোজ আগরওয়াল, স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত, দুই অতিরিক্ত সিইও দিব্যেন্দু দাস এবং অরিন্দম নিয়োগী, কমিশনের প্রতিনিধি সৌম্যজিৎ ঘোষ, রোল অবজার্ভার স্মিতা পাণ্ডে প্রমুখের হাত থেকে। এতে অনুষ্ঠান শেষ হতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়।
রাতে সুব্রত পালের কাছে খোঁজ করলে তিনি জানান, স্মারকগুলো দিতে পারলেও মানপত্রগুলো এদিন দেওয়া গেল না। কারণ, অত মানপত্র থেকে নাম মিলিয়ে দিতে গেলে আরও সময় লাগত। দিতে পারলে আমাদেরও ভালো লাগত। তবে, ওঁরা মঞ্চে স্মারক নিয়ে ছবি তুলতে পেরেছেন, এতে সবাই খুশি।

ছবিঃ- মঞ্চ থেকে পুরস্কার পাবেন না জেনে কিছু হতাশ ভোটকর্মীর প্রতিবাদ

