দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মাথায় করে মাটি বয়ে রাস্তা সংস্কার করলেন শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরি, অস্বস্তিতে প্রশাসন

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ সেপ্টেম্বর: বার বার প্রশাসনকে জানিয়েও রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় বিধায়ক নিজেই মাথায় করে পাথর, মাটি বয়ে রাস্তা মেরামত করছেন। বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া বিধানসভার গঙ্গাজলঘাঁটির কেলাই গ্ৰামে অভিনব এই দৃশ্যে রীতিমতো অস্বস্তিতে প্রশাসন থেকে শাসক দল।

খোদ বিধায়কের গ্রামের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। বারবার প্রশাসনের সবস্তরে জানিয়েও লাভ হয়নি। অভিযোগ, গ্রামে বিজেপি বিধায়ক থাকায় ওই রাস্তা মেরামতির ন্যুনতম উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন ও স্থানীয় পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি বা জেলা পরিষদ। শেষ পর্যন্ত বিধায়ক নিজেই তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ঝুড়ি কোদাল হাতে রাস্তা মেরামতির কাজ করলেন। রবিবার এই কান্ড দেখে হতবাক এলাকাবাসীরা। তৃণমূলের কটাক্ষ সবই বিধায়কের নাটক।

গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের কেলাই গ্রামে বাড়ি শালতোড়া বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরির। অতি প্রত্যন্ত গ্রাম। বিধায়কের জন্যই অখ্যাত এই গ্রাম এখন শিরোনামে। গঙ্গাজলঘাঁটি-শালতোড়া সড়ক পথের বাঁ দিকে জঙ্গলের ভিতরে গ্রামটির অবস্থান। বিধায়ক যে রাস্তা ধরে যাতায়াত করেন সেই রাঙ্গামেট্যা থেকে বিধায়কের গ্রাম কেলাই ছুঁয়ে রাজামেলা পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। অভিযোগ, দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা রাস্তা সংস্কারের জন্য স্থানীয় বিধায়ক চন্দনা বাউরি নিজের বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ থেকে রাস্তাটি মেরামতির উদ্যোগ নিলেও অভিযোগ, শুধুমাত্র বিরোধী দলের বিধায়ক হওয়ায় তাঁর গ্রামের রাস্তা মেরামত করতে দেওয়া হয়নি। দিনের পর দিন এই বেহাল রাস্তার কারণে শুধু বিধায়ক নয়, এলাকার মানুষও চরম কষ্টে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছিল। বর্ষায় সেই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় সেই রাস্তার হাল ফেরাতে মাঠে নামলেন খোদ বিধায়ক চন্দনা বাউরি। আক্ষরিক অর্থেই কোমর বেঁধে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ঝুড়ি কোদাল হাতে রাস্তা মেরামতির কাজে লাগলেন বিধায়ক। বিধায়ককে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা কর্মীও।

চন্দনা বাউরির দাবি, বিধায়ক হওয়ার আগে তার স্বামী শ্রবণ রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিনি স্বামীর জোগাড়ে ছিলেন। পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজও করেছেন তারা। তাই একাজ করতে তার কোনও দ্বিধা বা অসংকোচ লাগেনি। বরং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব মহলে বারবার বলার পরেও শাসক দলের চাপে প্রশাসন ইচ্ছাকৃত ভাবে ওই রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় তিনি নিজের বেতনের টাকা থেকে পাথর গুঁড়ো, মোরাম ও মাটি আনিয়ে রাস্তার হাল ফেরানোর চেষ্টা করেছেন।

বিধায়কের এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়ালেও একে নাটক বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তৃণমূল পরিচালিত গঙ্গাজলঘাঁটি পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি নিমাই মাজি বলেন, পথশ্রী প্রকল্পে ওই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। তারপরেও বিধায়ক এই নাটক করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *