আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ১১ আগস্ট: এক করোনাতেই নাজেহাল শহর তার ওপর দোষর ডেঙ্গু। আর তাই কড়া হাতে ডেঙ্গু সামাল দিতে জরিমানা ঘোষণা করল পুরনিগম। ফাঁকা জমি কিংবা নির্মীয়মান বিল্ডিংয়ে যদি জল জমে থাকে তাহলে ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এদিকে স্বাস্থ্য দফতরও সদা তৎপর ডেঙ্গু নিয়ে। এন্টামোলজিস্টদের দিয়ে মশার গতিপ্রকৃতি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্রই ডেঙ্গুর হদিশ মিলেছে।
করোনার আতঙ্ক থেকে এখনও মুক্তি পায়নি জেলাবাসী। তার ওপর আবার চিন্তা বাড়ালো ডেঙ্গুর প্রকোপ। পাহাড় থেকে সমতল সব জায়গায় এক দৃশ্য। তবে সমতলের থেকে পাহাড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেশী। গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ একলাফে অনেকটাই বেড়েছে দার্জিলিং জেলায়। এই কারণেই এবছর উদ্বেগ বেড়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সহ প্রশাসনের। স্বাস্থ্যদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর পর্যন্ত শহর এলাকায় বেশি ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছিল, কিন্তু এবছর সেই ছবি সম্পূর্ণ আলাদা। দেখা যাচ্ছে শহরের তুলনায় পাহাড় এবং শিলিগুড়ি মহকুমার গ্রামীণ এলাকায় থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গু, যা চিন্তায় ফেলেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে। ইতিমধ্যে ওই বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে এখন থেকে জোরকদমে ময়দানে নামার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসেই শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকা সহ দার্জিলিং জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ জন। যার মধ্যে দার্জিলিংয়ের দুধিয়াতেই একমাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ জন। পাশাপাশি শিলিগুড়ি সংলগ্ন সুকনাতে আক্রান্ত হয়েছেন আট জন। এছাড়া মহকুমা এলাকার খড়িবাড়ি, নকশালবাড়ি, মাটিগাড়া, বাগডোগরার মতো গ্রামীণ এলাকাতেও থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গু। সেই জায়গায় শিলিগুড়ি পুর এলাকায় এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র দুজন। তার মধ্যে একজন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের এবং আরেকজন দেশবন্ধুপাড়া বাসিন্দা। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে জেলা জুড়েই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।
এই বিষয়ে দার্জিলিং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য বলেন, “গত বারের তূলনায় এই বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই বৃদ্ধি হয়েছে। এন্টামোলজিস্টদের দিয়ে মশার গতিপ্রকৃতি জানতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই।
ডেঙ্গুর মশা মূলত জমা জলেই হয়ে থাকে। আর তাই শহরে কোথাও জল জমতে দেওয়া যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগম। যদি কোথাও জল জমে থাকে তাহলে সেই বাড়ির কিংবা জমির মালিককে জরিমানা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ে কোনও শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। পুরকর্মী সহ আশাকর্মীরা শহরজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। আর খালি জমি ও নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ে জমা জল পরিস্কার না করলে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।

