আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ২৩ আগস্ট: পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডে অনৈতিকভাবে সদস্য নিয়োগ, অনুন্নয়ন সহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে আন্দোলনে নামতে চলেছে শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি। সোমবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানান শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ও ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। তাদের অভিযোগ, শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ড বর্ষার সময় নিকাশি ব্যবস্থা, পথবাতি, জঞ্জাল অপসারণ, পানীয় জল এবং করোনার টিকাকরণের সমস্যা সমাধানে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পুরনিগমে অর্থ নয়ছয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মীদের উপর মানসিক অত্যাচার করা হচ্ছে। কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ না করে প্রশাসক বোর্ডে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ করে পেছনের দরজা দিয়ে পুরনিগম দখল করার চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস।
যদিও অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত প্রশাসক বোর্ড। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “শিলিগুড়িবাসীর সমস্যা সমাধানে পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ড সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ন্যুনতম নাগরিক পরিষেবা মিলছে না। উলটে একের পর এক প্রশাসক বোর্ডে অনৈতিকভাবে সদস্য নিয়োগ করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক শাখা আন্দোলন করব।”
যদিও বিজেপির এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ প্রশাসক বোর্ড। শংকর ঘোষকে পালটা দুর্নীতিবাজ বললেন বোর্ড সদস্য রঞ্জন সরকার। তার বক্তব্য, “বিজেপির বিধায়কদের কাজই উলটো পালটা বকা। শংকর এখনও বাচ্চা ছেলে ওর রাজনৈতিক জ্ঞানই হয়নি। উনি নিজেই তো মেয়র পারিষদ ছিলেন। কি কাজ করেছিলেন বলতে পারবেন মনে করে। শিলিগুড়ির কোনও সমস্যা সমাধান করা হয়েছিল তাদের আমলে। আইন না জেনে ভুল ভ্রান্তি কথাবার্তা বলছে। যারা অন্যকে দুর্নীতিবাজ বলে তারা নিজেরাই সবথেকে বড় দুর্নীতিবাজ। শুনেছিলাম বিজেপিতে বিপুল অর্থের বিনিময়ে যোগ দিয়েছেন। আর এখন গেরুয়া পরে সাধু সাজছেন।”
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে গেরুয়া শিবির ধরাশায়ী হলেও উত্তরের পাশাপাশি দার্জিলিং জেলায় জয়লাভ করেছে বিজেপি। তাই বিধানসভা নির্বাচনের পর পুরনিগম নির্বাচনেও নিজেদের জয়ের ধারা অব্যহত রাখতে চায় বিজেপি। এবার তাদের পাখির চোখ শিলিগুড়ি পুরনিগম। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে আন্দোলনে নামছে গেরুয়া শিবির।

