আমাদের ভারত, ৯ অক্টোবর: টিকালাল তাপলু নামে এক হিন্দু ব্রাহ্মণকে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জে কে এল এফ। দিনের পর দিন তার মৃতদেহ রাস্তায় পড়েছিল। কেউ সৎকার করেনি পর্যন্ত। তার পরেও চলেছিল নৃশংস হত্যালীলা। ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় কাশ্মীরে হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল যার আঁচ গোটা দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিল। ভূ-স্বর্গে সংখ্যালঘুদের নারকীয় হত্যালীলা ও রাতারাতি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পলায়ন এক ভয়াবহ ইতিহাসের সাক্ষী। প্রায় তিন দশক ফের উপত্যাকায় সেই ভয়াবহ দিনগুলি ফিরে আসছে। আবারও কাশ্মীরে একের পর এক হিন্দু ও শিখদের হত্যা করছে জঙ্গিরা। পাঁচদিনে ৭ জন হিন্দু ও শিখকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। আর সেই কারণেই অনেকেই ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে খবর।
সম্প্রতি শ্রীনগরের একটি স্কুলের এক হিন্দু ও এক শিখ শিক্ষককে অন্য মুসলিম শিক্ষকদের থেকে আলাদা করে এনে গুলি করে খুন করে জঙ্গিরা। তার আগের দিন জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয় এক ওষুধ দোকানের হিন্দু মালিক। পরপর ঘটা এই ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কাশ্মীরের হিন্দু ও শিখরা।
জানা গেছে শুক্রবার বঁদগাঁও জেলার শেখপুরা থেকে পালিয়ে গেছেন বেশ কয়েকটি হিন্দু পন্ডিত পরিবার। উপত্যকা থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া পণ্ডিতদের পুনর্বাসনের জন্যই এই বসতি তৈরি করেছিল কেন্দ্র সরকার। সরকারি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে কাশ্মীর ছেড়ে পালিয়েছেন অনেক হিন্দু বলে খবর। কিন্তু পণ্ডিতদের কাশ্মীর ছেড়ে না যাওয়ার আবেদন করেছেন প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ৮০-র দশকের শেষে কাশ্মীরের চরমপর্যায়ে উঠেছিল সন্ত্রাসবাদি কার্যকলাপ। পৈশাচিক রূপ ধারণ করেছিল সাম্প্রদায়িকতা। পাক মদদপুষ্ট জঙ্গিরা নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ছিল কাশ্মীরি পন্ডিত সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর। জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল। বাধা দিলে নির্বিচারে হত্যা করেছিল। ফলে প্রাণ ও ধর্ম বাঁচাতে প্রায় এক লক্ষ কাশ্মীরি পন্ডিত সেই সময় নিজেদের ঘর ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। সরকার তাদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিদের হুমকিতে তা পুরো পুরি সম্ভব হয়নি।

