টিকিট পেতে চাইছেন  শুভেন্দু ঘনিষ্ঠরা

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৩ মার্চ: যিনি জিততে পারবেন তাকেই প্রার্থী করা হবে বলে বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি শমিত দাস সাংবাদিকদের জানালেও অমিত শাহের জনসভায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপিতে যোগদানকারী অনেকেই বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পেতে তৎপর হচ্ছেন। বিজেপিতে যোগদান করার পর তিনি নিঃশর্তে বিজেপিতে যোগদান করেছেন বলে শুভেন্দু অধিকারী জানালেও তাঁর অনুগামীরা টিকিট পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। যদিও এখনও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি তবুও শুভেন্দু অধিকারী ভেতরে ভেতরে কলকাঠি নাড়ছেন বলে সূত্রের খবর। দলের জেলা সভাপতি যদিও জানিয়ে দিয়েছেন, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বৃহস্পতি অথবা শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে শুভেন্দু অনুগামীরা কতজন টিকিট পাচ্ছেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী হওয়ার জন্য অনেকেই আবেদন জানিয়েছেন ঠিকই সে ক্ষেত্রে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিরীক্ষণ করেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রণব বসু, রমাপ্রসাদ গিরি, তপন দত্ত, দুলাল মন্ডল, কাবেরী চট্টোপাধ্যায়, স্নেহাশীষ ভৌমিক এবং অমূল্য মাইতির টিকিট পাওয়া নিয়ে দলীয় স্তরে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। জানাগেছে, জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি সবং কেন্দ্রে, মেদিনীপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রণব বসু মেদিনীপুর কেন্দ্রে, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ গিরি দাঁতন কেন্দ্রে এবং জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা তপন দত্ত দাসপুর কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন। সে ক্ষেত্রে দলের মধ্যে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। কেননা মেদিনীপুর কেন্দ্রে সেখানকার প্রাক্তন পৌর চেয়ারম্যান প্রণব বসুর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান জেলা সভাপতি শমিত দাস। খড়্গপুরে প্রার্থী হতে চেয়েছেন মুকুল অনুগামী শিবু পানিগ্রাহী। দাঁতনে রমাপ্রসাদ গিরির পাশাপাশি প্রার্থী হওয়ার দাবি জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ এক নেতা। দাঁতনে রমাপ্রসাদ গিরি প্রার্থী না হতে পারলে তিনি নারায়ণগড় কেন্দ্রেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। প্রার্থী হওয়া নিয়ে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের মন কষাকষি শুরু হলে দলে ভাঙনের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে ভেবে কৌশলী পদক্ষেপ নিচ্ছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *