নীল বণিক, আমাদের ভারত, কলকাতা, ৯ মে:
বিরোধী দলনেতা ঠিক করা নিয়েও এবার কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ। দলনেতা ঠিক করতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। গতকালই এক কেন্দ্রীয় নেতা এবিষয়ে কলকাতায় বিজেপির হেস্টিংস অফিসে বৈঠক করেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। তারপরেই দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই ঠিক করবেন বিধানসভায় কে হবেন বিরোধী দলনেতা।
মুকুল রায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এবারই প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তুু সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা কম নয়। রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন। প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। রাজ্য বিধানসভার বহু বিধায়কের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। অনেকে তাই মনে করছেন, বিরোধী দলনেতা হওয়ার সব রকম যোগ্যতা রয়েছে মুকুল রায়ের। তাই তাঁর অনুগামীরা তাঁকে বিরোধী দলনেতা করার জন্য সওয়াল শুরু করেছে।
অন্যদিকে জননেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী। রাজ্যের একাধিক দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তিনি সামলেছেন। দীর্ঘদিন সাংসদও ছিলেন। সব দলের বহু বিধায়কের সঙ্গে তাঁরও সম্পর্ক ভালো। তাই, তাঁর অনুগামী সহ যুব মোর্চার বহু নেতা–ই শুভেন্দু অধিকারীকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দেখতে চাইছেন।
অন্যদিকে এই পদের অন্যতম দাবিদার আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট কেন্দ্রের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা। তিনি গতবারও বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। মূলত চা-বাগানের শ্রমিক নেতা থেকে তিনি উঠে এসেছেন। তাঁর দিকে দলের আদি নেতাদের সমর্থন রয়েছে। জানাগেছে, সংঘের একাংশের সমর্থনও তার দিকে রয়েছে।
ফলে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় দুই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষককে রাজ্যে পাঠাচ্ছে দিল্লি। কেন্দ্রীয় আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ ও ভূপেন্দ্র যাদবকে পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু, মুকুল এবং মনোজ টিজ্ঞা এই তিনজনের মধ্যে থেকে একজনকে বাছতে রবিশঙ্কর প্রসাদের মতো অভিজ্ঞ মন্ত্রীকে রাজ্যে পাঠাচ্ছে দিল্লি। তার সঙ্গে ভূপেন্দর যাদবের মত সাংগঠনিক নেতাকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
জানাগেছে তাঁরা সমস্ত বিধায়কের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবেন। তারপর সংখ্যাগরিষ্ঠের মত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায় এবং মনোজ টিগ্গার মধ্য থেকে একজনকে বিরোধী দলনেতা ঠিক করবেন।

