রাজেন রায়, কলকাতা, ৩ জুলাই: রাজ্য চালাতে গেলে একাধিক জায়গায় ভুল ভ্রান্তি করে শাসকদল। বিরোধী দলের কাজ হল শাসকদলের সেই ভুলকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া। বিধানসভার অন্দরে এবং বাইরে সেই বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে পারলে তবেই লাভ বিরোধী দলের। ঠিক যেমন সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময় করেছিলেন আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোট পরবর্তী হিংসার ইস্যু আগে থেকেই ছিল। বাড়তি হাতিয়ার হিসেবে এ বার ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ড হাতে পেয়ে গিয়েছে বিজেপি। তার মধ্যে আবার বেনজির সংঘাতের আবহে শুরু হয়েছে রাজ্যের বিধানসভা অধিবেশন। কিন্তু নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের অনেকে বিধানসভার ভেতরে লড়াইয়ে অভ্যস্ত নয়। সেই কারণে শনিবার হেস্টিংসে বিশেষ কর্মশালায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার করে দিলেন, আসন্ন সময় এই ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডই প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে গেরুয়া শিবিরের।
ধৃত দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে বিধান ভবনের ভিতরে এবং বাইরে, তৃণমূলের যাত্রাপথ যতটা সম্ভব দুর্বিসহ করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।
হেস্টিংসের বিজেপির কার্যালয়ে ‘স্যারের’ ভূমিকায় রয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের দু’জনেরই একটা দীর্ঘ সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে বিধানসভায়। এ দিনের বৈঠকে প্রথমে বিধায়কদের ‘ক্লাস’ নেন দিলীপবাবু। এরপর ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী সময় রাজনৈতিকভাবে ঠিক কোন ইস্যুতে শাসকদের নিশানায় নিতে হবে, সেটা স্পষ্ট করে দেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তিনি বিধায়কদের জানান, ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে সুর সপ্তমে তুলতে হবে বিধায়কদের। তাঁর কথায়, “ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে এমন তীব্র আন্দোলন করতে হবে, যাতে শাসকদের কান ঝালাপালা হয়ে যায়।”

