আমাদের ভারত, ২৭ জুলাই: “এই ভাবেই চলতে থাকলে আগামী ৩০ বছর পর বাংলাদেশে হিন্দুরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।“ বাংলাদেশের জনশুমারির তথ্য প্রকাশের পর এই মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার সন্ধ্যায় তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “বাংলাদেশের জনশুমারির তথ্য জানান দিচ্ছে যে ২০১১ সালের ন্যায়ে ২০২২ সালে সংখ্যালঘু হিন্দু সনাতনীদের জনসংখ্যা মূল জনসংখ্যার ৮.৫৪% থেকে কমে ৭.৯৫% দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৯০.৩৯% থেকে ৯১.০৪% হয়েছে।
এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, ১৯৪০ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী এই ভৌগলিক এলাকায়, অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব বঙ্গে মূল জনসংখ্যার ২৮% বসবাসকারী ছিলেন সংখ্যালঘু হিন্দু সনাতনী সম্প্রদায়ের। মূলত দুই দফায়, প্রথমত ১৯৪৭ -এর দেশ ভাগের সময়ও দ্বিতীয়ত ১৯৭১ -এর পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তি যুদ্ধের অধ্যায়ের সময় এই জনসংখ্যা হ্রাস পায়।
তবু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও ১৯৭৪ সালে সংখ্যালঘু হিন্দু সনাতনী সম্প্রদায় সে দেশের জনসংখ্যার ১৩.০৫% ছিল। অথচ ২৩ বছরের পাকিস্তানি চরমপন্থী অপশাসন এবং অত্যাচারের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পরেও, একই ভাষা ব্যবহারকারী ও এক প্রকার একরকম জীবন যাপন করে থাকেন এমন জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচারের ফল হল যে ১৯৭৪ সালের ১৩.০৫% জনগোষ্ঠী ২০১১ তে কমে গিয়ে ৮.৫৪% এ গিয়ে ঠেকে, তা আবার বর্তমানে ৭.৯৫%।
এই ক্রমশঃ অত্যাচারের ফলে একটা বড় অংশ ধর্ম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে অথবা সর্বস্বান্ত হয়ে উদ্বাস্তু হিসেবে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছে। কিছু নিরীক্ষায় তো এমন সম্ভাবনাও উঠে আসছে যে এই ভাবেই চলতে থাকলে আগামী ৩০ বছর পর বাংলাদেশে হিন্দুরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
অন্যদিকে ভারতবর্ষে ১৯৫১ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় মূল জনসংখ্যার মাত্র ৯.৮% ছিল, সংখ্যায় উল্লেখ করলে ৩.৫৮ কোটি (তিন কোটি আটান্ন লক্ষ)। ২০১১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭.২২ কোটি (সতেরো কোটি বাইশ লক্ষ), যা মূল জনসংখ্যার ১৪.২৩%।
অনুমান করা হচ্ছে পরবর্তি জনশুমারিতে (২০২১ সালে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু করোনার জন্য পিছিয়ে যায়) এই সংখ্যা আরো বেড়ে ২১.৩ কোটি (একুশ কোটি ত্রিশ লক্ষ) হয়ে যাবে।
পশ্চিমবঙ্গেও ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ২% কমে গিয়ে ৭১% হয়, অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ২% বৃদ্ধি পায়। ২০২১ এর বিধানসভার ভোটার তালিকা কে যদি মাপদন্ড ধরা হয়, তবে অনায়াসে বলা যেতে পারে হিন্দু সনাতনী সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার শতাংশ সত্তরের ঘরের থেকে নিচে নেমে এসেছে। গত দশকের হিসেব নিকেষ প্রকাশ না হলেও, একটি বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমান শাসক দলের প্রচেষ্টায়, নিজেদের ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে গিয়ে কত অনুপ্রবেশকারী ভুয়ো ভোটার জড়ো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে এবং তাদের হিন্দু না হওয়ার সম্ভাবনাই উজ্জ্বল।
আবার ভোট পরবর্তী হিংসার ফলে সনাতনী হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে দেশের অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাড়ি দিচ্ছে। আবার কাজ কর্মের খোঁজেও অনেক শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করছে, এমন কি মেহনতি মানুষজন পরিযায়ী শ্রমিক জীবনের পীড়া থেকে বেরিয়ে এসে যে সকল জায়গায় জীবিকা নির্বাহের জন্য থাকেন, সেখানের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।
বেশি দিন পশ্চিমবঙ্গে এই তোলামূল দল ও এই দলের সরকার থাকলে সেদিন দূর নেই যখন পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় বাংলাদেশে পরিণত হবে। তোষণের রাজনীতির মূল কারণ।
তাই সাবধান, আর জেগে ঘুমালে চলবে না। এই সরকারকে উৎখাত করতেই হবে, নইলে শিরে সংক্রান্তি।”

