কুমারেশ রায়, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ মে:
দুষ্কৃতিদের ছোড়া বোমায় আহত ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাটকে দেখতে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। ঘাটাল মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়ে আহত বিধায়কের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। আহত বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট এইচ ডি ইউ বিভাগে ভর্তি রয়েছেন।
উল্লেখ্য গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বোমা নিয়ে ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাটের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতি। সেই ঘটনায় বিধায়কসহ তিনজন আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানাগেছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে ঘাটাল থানার মনসুকা বাগানালা গ্রামে এক চিকিৎসক বিজেপি নেতার চেম্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এলাকার চিকিৎসক কিঙ্কর ঘড়ুয়ের বন্ধ হয়ে থাকা চেম্বার খোলার ব্যবস্থা করার জন্য গতকাল সন্ধ্যায় বিধায়ক শীতল কপাট সেখানে গিয়েছিলেন। বিধায়ক যখন ওই গ্রামে পৌঁছান তখন তাদের লক্ষ্য করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা বোমা ছোড়ে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় আহত শীতলবাবু সহ তিনজনকে ঘাটাল মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিধায়কের সঙ্গে দেখা করার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কোভিড প্রটোকল মেনেই নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গিয়েছিলেন শীতলবাবু। তার নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনকে দিতে হবে।
তিনি বলেন বিধায়ক এখন স্থিতিশীল আছেন। এফআইআর জমা দেওয়ার জন্য তাঁর সই প্রয়োজন ছিল, কাল তিনি সই করার অবস্থায় ছিলেন না। আমরা সবাই করোনাবিধি মেনে চলছি। তাই বলে কি কেউ কারও বাড়ি যাবে না? ঘরে বসে থাকতে হবে? এই প্রশ্ন করেন শুভেন্দু অধিকারী।
শীতল কপাটের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে আজ ঘটাল থানায় অবস্থান বিক্ষোভ করে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, লকডাউন চলার ফলে বেশি মানুষকে নিয়ে আন্দোলন করা এখন সম্ভব নয়। আজ যেসব কর্মীরা ধরনায় বসে ছিলেন আমি তাদের ধরনা তুলে দিতে বলেছি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস হচ্ছে। বিজেপির নেতা কর্মী এমনকি ভোটাররাও সন্ত্রাসের মুখে পড়ছেন। আমি আজ ঘাটাল মহকুমার এসডিপিও এবং ঘাটাল থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে কথা বলেছি যাতে দোষীদের গ্রেফতার করে তাদের সাজা দেওয়া হয়।
তিনি ঘাটালের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দলুই সম্বন্ধে বলেন, শংকর দোলুই লেকচার দিচ্ছে যে নির্বাচনের আগে লক্ষ্মণপুরে তাঁর হাত ভেঙ্গে দিয়েছিল সিপিএম, তখন কোন নেতা এসেছিল? তখন আমি এসেছিলাম।
শুভেন্দু বাবু বলেন, এখন আস্ফালন দম্ভ এসব দেখানোর সময় নয়। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। পুলিশ প্রশাসন দোষীদের যদি গ্রেফতার না করে তাহলে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করবো।
শুভেন্দু আরো বলেন, লকডাউন এর ফলে সাধারণ মানুষ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ সংকটে আছেন । মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। আমরা এরপরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করবো। আমি পুলিশ আধিকারিকদের বলেছি, ঘাটাল মহকুমার পাঁচটা ব্লকে কোথাও যেন কোনো গোলমাল না হয়।

