আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ১৪ ফেব্রুয়ারি: বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথ রবিবার কোচবিহার জেলা থেকে আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রবেশ করে। এদিন জেলার আসাম সীমান্ত লাগোয়া কুমারগ্রাম ব্লকে প্রথম রথকে সামনে রেখে একটি সভার আয়োজন করা হয়। তবে এদিন মূল জনসভা ছিল আলিপুরদুয়ার ১নং ব্লকের বাবুরহাটের ১০মাইল খেলার মাঠে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা, বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিজ্ঞা সহ অনান্য নেতৃত্ব।

এদিন বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ প্রথম বাবুরহাটে পৌছান শুভেন্দু অধিকারী। এরপর সেখানে আসে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার বিশেষ ট্যাবলো। তারপর আসে রাহুল সিনহা। নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,“বিগত সাড়ে ৯বছর ধরে আপনারা কি প্রকৃত উন্নয়ন পাননি।মিথ্যাচার ছাড়া অন্য কিছুই হয়নি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বলছেন দেড় কোটি চাকরি দিয়েছি। আগামী ৫ বছরে নাকি আরও দেড় কোটি চাকরি হবে। কেউ কি চাকরি পেয়ছেন? কদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারে এসে বলে গেছেন, আলিপুরদুয়ারকে জেলা দিয়েছি, আরও অনেক কিছুর উল্লেখ করেছেন। এটা তো মোদী সরকারের নীতি যে ভারতবর্ষে নতুন নতুন জেলা তৈরী কর। সেই জেলাগুলিতে একটা করে ইউনিভারসিটি তৈরী কর, একটা করে মেডিক্যাল কলেজ তৈরী কর।এটা তো মোদী সরকারের নীতি। এর জন্য তো কেন্দ্র সরকারের হোম ডিপার্টমেন্টকে দিতে হয়েছে।আজকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নাম পাল্টে বাংলা আবাস যোজনা করেছে। শুধু মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই করেননি। রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠন হবে। তারপর আমরা মুখ্যমন্ত্রী যিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাবেন উনাকে মিথ্যাশ্রী উপাধি দেব। আর তোলাশ্রী উপহার দেব ওনার ভাইপোকে।” তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গে আপনারা কি পেয়েছেন? দক্ষিণ কলকাতার ৪-৫টা লোক আমাদের চালাবে। আমি জেলার ছেলে বিদ্রোহ করেছি। এখন বলছেন ২৯৪টি আসনে আমি পার্থী। তাহলে কি রাজবংশী মানুষদের প্রয়োজন নেই। রাজবংশী মানুষদেরকে তো আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বিশ্বাসঘাতক বলেন। একবার লোকসভায় আপনারা শিক্ষা দিয়েছেন আগামী বিধানসভায় আরও ভাল করে শিক্ষা দিতে হবে।একইসাথে উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য ১০০০কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি স্বাভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই কানায় কানায় ভরে ওঠা মাঠে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন,“তৃণমূল কংগ্রেসকে আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন উত্তরকন্যা, সেখানকার অতিথি নিবাস, ডুয়ার্স কন্যা এগুলো কোনও উন্নয়ন নয়। উন্নয়ন মানে কৃষকের উন্নয়ন, চা-শ্রমিকদের উন্নয়ন, রাজ্যে প্রায় ২কোটি বেকার।ন২০১৪ সাল থেকে এসএসসিতে চাকরি নেই। টেটের খাতা বদল হয়। পরেশ অধিকারীর মেয়ের নাম ওয়েটিং লিস্টে না থাকলেও চাকরি হয়। বেকার যুবকরা প্রশ্ন করবেন না? সাড়ে ৮লক্ষ যুবক বিএ পাশ করে বসে আছে। আড়াই লক্ষ যুবক বেসিক ট্রেনিং নিয়ে বসে আছে। তাদের চাকরি দেওয়া হয়নি। আর আপনারা যদি এই সরকারকে উৎখাত করতে না পারেন তাহলে পশ্চিমবাংলার অগ্রগতি হবে না। তাই আমরা বলছি ডবল ইঞ্জিন সরকার চাই। একদিকে রাজ্যে বিজেপির উন্নয়ন অন্যদিকে মোদীজির উন্নয়ন। কলকাতা আর দিল্লিতে একই দলের সরকারের চাই। নইলে উন্নয়ন হবে না।” অন্যদিকে সভামঞ্চ থেকে রাহুল সিনহা, সায়ন্তন বসু সকলেই রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন।

