আমাদের ভারত, হুগলি, ১৬ ডিসেম্বর : “কলকাতার পুরভোটের দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিজ নিজ এলাকায় জমায়েত রাখবেন। আমাদের বিধায়করাও কলকাতার আশেপাশে একটি জায়গায় বসে থাকব। যদি ভারতীয় জনতা পার্টির একটি প্রার্থীও আক্রান্ত হয়। পোলিং এজেন্টকে বুথ থেকে বেড় করে দেওয়া হয়। তবে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইতে গোটা রাজ্যকে স্তব্ধ করতে হবে। গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই ছাড়া যাবে না”। বৃহস্পতিবার সিঙ্গুরের ধর্না অবস্থান বিক্ষোভের শেষ দিনে দাঁড়িয়ে এভাবেই হুঁশিয়ারি দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা ভবানীপুরে ভোট লুট দেখেছি। গোসাবার ভোট লুট দেখেছি। বাইরের থেকে ভোটার গিয়ে ভোট দিয়েছে দেখেছি। খড়দাতে বাংলাদেশি ভোটাররা ভোট দিয়েছে আমরা দেখেছি। কলকাতার পুরভোটে ভোটাররা যদি আমাদের না চায় তবে আমরা জিতব না। যাকে ভোটাররা ভোট দেবেন তিনিই জিতবেন। কিন্তু গনতন্ত্রকে ধংস করে বিজেপি প্রার্থীর মাথায় আঘাত করে রাস্তায় বোমা ফাটিয়ে যদি ভোট লুট করে গনতন্ত্রকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করার চেষ্টা করা হয় তবে গোটা রাজ্যে বিজেপি কর্মীরা রাস্তার উপর বসে পড়বে।
এদিন নন্দীগ্রামের বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় কৃষকদের ফর্ম ফিলাপ করাচ্ছেন। এটা মুখ্যমন্ত্রী একটা নতুন ধাপ্পা। ৪৮ ঘন্টার বৃষ্টিতে আমন ধান শেষ। সবজি শেষ। পানের বরজ ও আলু শেষ। তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় কৃষকদের ফর্ম ফিলাপ করাচ্ছেন। এটা তৃণমূলের আরও একটা নতুন টুপি।” এদিন শুভেন্দু বাবু এই টুপির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১৪সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা করেছিলেন। সেই বীমায় ৬০ভাগ টাকা দিত দিল্লি ও ৪০ ভাগ টাকা দিত রাজ্য। যৌথ একটা প্যাকেজে বীমা ছিল। ১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে কৃষকরা নুন্যতম পাঁচ হাজার করে টাকা পেয়েছিলেন। পশ্চিমবাংলায় বিজেপি ১৮টা আসন জিততেই মুখ্যমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নাম দেওয়া কোনও প্রকল্প বাংলায় চলতে দিলেন না। নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী চালু করলেন বাংলা ফসল বীমা যোজনা। আগে ছিল ফার্স্ট পার্টির বীমা। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করলেন থার্ড পার্টির বীমা। তাই ১৯ সালের পর থেকে কোনও কৃষকরা খরা কিম্বা বন্যায় ক্ষতিপূরণ পাননি।
এদিন ওই মঞ্চ থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বেশ কিছু ঘোষণা করে বলেন, চলতি মাসের ২২ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় জেলায় বিডিওর কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হবে দলের তরফে। জানুয়ারীর ৫ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় কৃষক মার্চ হবে। ১০ জানুয়ারী নবান্ন অভিযানের ঘোষণা করা হবে। এরপরেই রাজ্য সভাপতি সিঙ্গুর থেকে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেন।

