রাজেন রায়, কলকাতা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: একদিকে প্রাক্তন কলকাতা মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়কে দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার জন্য বারবার সুযোগ দিতে দেখা যাচ্ছে বিজেপিকে। কিন্তু দেড় বছর নিষ্ক্রীয় থাকার পরেও কিছুদিন সক্রিয় হওয়ার পর আবার প্রেম সপ্তাহে আচমকাই সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে উধাও শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও অস্বস্তি বাড়িয়েছে দলের অন্দরে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই লাভ বার্ডস’ আদৌ তাদের রাজনৈতিক লাভ দেবেন কিনা তা নিয়ে দলের অন্দরে প্রশ্ন বেড়ে গিয়েছে।
রাজ্য বিজেপির চারটি ‘পরিবর্তন রথ যাত্রা’ ঘুরতে শুরু করেছে। পঞ্চম অর্থাৎ কলকাতা জোনের রথযাত্রার সূচনা বৃহস্পতিবার। এই রথ যাত্রায় উপস্থিত থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু তার প্রাকমুহূর্তে কলকাতা জোনের পর্যবেক্ষক শোভন চট্টোপাধ্যায়েরই দেখা পাচ্ছে না বিজেপি। দেখা মিলছে না তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। এক শোভন-ঘনিষ্ঠের দাবি, ‘ব্যক্তিগত কাজে’ তাঁরা কলকাতার বাইরে। ফোনে সাড়া দিচ্ছেন না বৈশাখী। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেখেছেন। কিন্তু জবাব আসেনি। অনেকে রসিকতা করে বলছেন,
শোভন বৈশাখী সম্ভবত ‘ভ্যালেন্টাইন্স উইক’ কাটাচ্ছেন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের পরিচয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের একাংশ।
প্রথম থেকেই সাংগঠনিক ভাবে ‘দুর্বল’ কলকাতা জোনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিজেপি। ওই জোনের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনার একাংশ রয়েছে। তৃণমূলের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় গেরুয়া শিবিরের ভিত্তি বাড়াতেই কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভনকে মাথায় বসিয়ে ওই জোনের কমিটি গড়েছিল রাজ্য বিজেপি। শোভন-বান্ধবী বৈশাখীকেও ওই কমিটিতে রাখা হয়। কিন্তু কলকাতা জোনের রথযাত্রা এবং অমিতের সফরের ঠিক আগে আগে তাঁদের দেখা মিলছে না। তবে এসব নিয়ে ভাবিত নন বঙ্গ বিজেপি নেতারা। রীতিমতো গুরুত্ব দিয়ে নিয়ে আসার পরেও যদি নিজেরাই নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় নষ্ট করেন, সে ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতেই পারে, এমনটাই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের।

