মহম্মদবাজার থানার আদিবাসী গ্রামে শুটআউট, প্রাণ গেল এক ব্যক্তির

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, সিউড়ি, ৬ ডিসেম্বর: মদ্যপান করে বচসার জেরে গুলি করে মারা হল এক ব্যক্তিকে। গুলিবিদ্ধ আরও একজন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার পুরাতন হাবড়াপাহাড়ি গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম ধানু শেখ (৪৫)। বাড়ি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার বেলগ্রামে। তিনি পেশায় পাথর খাদানের ড্রিল মিস্ত্রি। জখম ব্যক্তির নাম ধনা হাঁসদা (৩৫)। তিনি পেশায় মহম্মদবাজার ব্লকের ভাঁড়কাটা অঞ্চলের ঢোলকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এলাকার একটি পাথর খাদানে ড্রিল মিস্ত্রির কাজ করতেন। ফলে পুরাতন হাবড়াপাহাড়ি গ্রামে তাঁর নিত্য যাতায়াত ছিল। ফলে সোমবার সন্ধ্যায় ওই গ্রামে গিয়েছিল ধানু। এদিকে ওই গ্রামে বিকেলের দিকে গুলিবিদ্ধ ধনা হাঁসদার বাড়ি যায় এক অপরিচিত যুবক। সাইকেল নিয়ে গ্রামে যাওয়া ওই যুবক ধনার বাড়িতে গিয়ে তার দিদি অবিবাহিত সাদি হাঁসদার কাছ থেকে ভাত খেতে চায়। সাদি তাকে ভাত দেয়। ইতিমধ্যে সন্ধ্যা নেমে এলে গ্রামে একে একে লোকজন ফিরতে শুরু করে। এরপরেই অপরিচিত যুবককে গ্রামের আদিবাসী মার্শাল ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গ্রামের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে মদ্যপান করে অপরিচিত যুবক। সে গ্রামবাসীদের জানায়, ধনার দাদা সায়মন হাঁসদার বাড়ি এসেছেন। সে তার পূর্ব পরিচিত। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ অপরিচিত যুবককে নিয়ে বচসা বাধে। গ্রামবাসীরা তাকে ধরে সায়মনের বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় শিবলাল হাঁসদার গোয়াল ঘরের কাছে ধানু ও ধনাকে দুটি গুলি করে। গুলির শব্দ পেয়ে গ্রামবাসীরা ছুটে আসে। অভিযুক্ত যুবক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গ্রামের পূর্ব দিকে কাঁদর পেরিয়ে ছুটে পালিয়ে যায়। কিন্তু একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কেন ভাত খেতে দেওয়া হল? এ প্রশ্নে সাদি হাঁসদার মা পানু হাঁসদা বলেন, “আদিবাসীদের মন খুব সরল। একজন ভিখারি এলেও তাকে ফেরায় না। তাই তাকে ভাত খেতে দেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে গ্রামে ফিরে জেনেছি”।

গ্রামের বাসিন্দা শিবলাল হাঁসদা বলেন, “আমি চাষের কাজ সেরে বাড়িতে শুয়েছিলাম। গুলির শব্দে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দেখি দুজন রক্তাক্ত অবস্থায় পরে রয়েছে”।

গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মীরাম বাস্কি বলেন, “সন্ধ্যার সময় আমরা গ্রামে ফিরে দেখি ক্লাব ঘরে ওই যুবক বসে রয়েছে। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বলে সাদির বাড়িতে এসেছে। সায়মন খাবার দিয়ে গিয়েছে। এরপরেই শিক্ষক ধনা হাঁসদা এসে বলে বাড়িতে চলো দেখি কে আসতে বলেছে। এরপরেই ক্লাব থেকে বেরিয়ে ছুটতে শুরু করে অভিযুক্ত যুবক। গ্রামবাসীরা ছুটে ধরতে গেলে পকটে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ধানুর বুকে গুলি করে। শিক্ষকের পিছনে গুলি করে পালিয়ে যায়”।

গ্রামবাসীরা জানান, সাদি হাঁসদা কয়লা খাদান বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই কারণে এই ঘটনা কিনা তার তদন্ত করছে পুলিশ। তবে খুনের কারণ নিয়ে এখনও পরিস্কার করে কিছু বলতে পারছেন না গ্রামবাসীরা।

জেলা পুলিশ সুপার নরেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *