বাপ-বেটার পারমিশনেই ২০০৭-এ নন্দীগ্রামে চটি পুলিশ ঢুকেছিল, মমতার অভিযোগকে পাগলের প্রলাপ বললেন শিশির

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, ২৯ মার্চ: অধিকারী পরিবারের অনুমতিতেই ১৪ বছর আগে ২০০৭-এ পুলিশ নন্দীগ্রামে গুলি চালিয়েছিল। রবিবার নন্দীগ্রামের প্রচারে গিয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে পাগলের প্রলাপ বলে কটাক্ষ করে শিশির অধিকারী বলেছেন, এই বক্তব্যের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি অভিযোগ জানাবেন। শিশিরবাবুর দাবি নন্দীগ্রামে হারছেন বুঝতে পেরেই এই সব কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার নন্দীগ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, পুলিশের পোশাক পরে অনেকে গুলি চালিয়েছিল। হাওয়াই চটি পরে এসেছিল। এবারও সেই সব কেলেঙ্কারি করছে। এই বাপ-বেটার পারমিশন ছাড়া সেদিন পুলিশ নন্দীগ্রামের ঢুকতে পারত না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি।”

মমতার এই মন্তব্যের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। সিপিএমের তরফে প্রশ্ন উঠেছে কেন এতদিন এসব বলেননি মমতা? কেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গণহত্যার জন্য দায়ী করা হয়েছিল? এতদিন এতকিছু জানা সত্বেও কেন শাস্তির ব্যবস্থা করেননি মুখ্যমন্ত্রী? তবে মমতা বলেছেন, “ফেয়ার এনাফ, ভদ্রলোক বলে কিছু বলিনি, সহ্য করে গিয়েছি। ”

মমতার এই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিশির অধিকারী বলেন, “যেসব পুলিশ অফিসাররা এখানে গুলি চালিয়েছিল তাদের তো তিনি বড় বড় পদ দিয়েছেন। তাহলে উনি সব জানেন। আমরা আর কি বলব? উনি তো তৃণমূল পার্টির লিডার। নন্দীগ্রামের লোক সব জানে। ওনার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। হারের সংকেত পেয়ে সব মিথ্যে কথা বলছেন। এসব একেবারে মিথ্যা কথা। পাগলের প্রলাপ।মেদিনীপুরের মাটি সংকল্পপূর্ণ। সেটা উনি বুঝেছেন।”

শিশিরবাবু আরো বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী এদিনের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবেন। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মানুষকে প্ররোচিত করতেই এই ধরনের মন্তব্য করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী শিশিরবাবু আরো বলেন, উনি এসব বললেও কোনো লাভ হবেনা, মানুষ তাকে বিশ্বাস করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *