সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৯ জুলাই: উল্টো রথে জগন্নাথ-সুভদ্রা- বলভদ্রের শিকারা বিহার হল পুরুলিয়া শহরের সাহেব বাঁধে। তিন ভাই বোনকে পূজারি ভক্তরা কোলে চাপিয়ে সুসজ্জিত শিকারাতে নিয়ে গিয়ে বসান। অন্য একটি শিকারাতে নাম সংকীর্তনের দল সহযোগে এই বিশেষ রীতি হল এদিন। আড়ম্ভরের মধ্য দিয়েই নতুন এই আচার পার হল পুরুলিয়ায়।

২০১৯ সালে একইভাবে মাসির বাড়িতে থাকাকালীন এই রীতির সূচনা হয়েছিল। দুই বছর কোভিডের কারণে রথ যাত্রা বন্ধ ছিল। উৎসব কমিটি এবং সরবাগান জগন্নাথ মন্দিরের দায়িত্বে থাকা স্বামী রঙ্গ গোবিন্দ দাস বললেন, ‘৮ বছর আগে সূচিত রথযাত্রার বিশেষত্ব হল এখানে জগন্নাথ বলরাম শুভদ্রা মূর্তি রথে বসিয়ে যাত্রা করা হয়। রাধা-কৃষ্ণ প্রেমকথার নৌকা বিহার নয়, এখানে নৌকা বিহার করছেন দাদা এবং বোনকে নিয়ে জগন্নাথ দেব। ভগবানকে খুশি ও আনন্দ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাসির বাড়িতে থাকাকালীন প্রতিবারই এই ভাবে নৌবিহার অনুষ্ঠান হবে।’ শিকারায় চেপে প্রায় এক ঘন্টা জলবিহার করানো হয় বিগ্রহগুলিকে। এই দৃশ্যের সাক্ষী হতে সাহেব বাঁধের পাড়ে উপস্থিত ছিলেন প্রচুর ভক্ত। জগন্নাথ বলরাম শুভদ্রার এই নৌবিহার উপভোগ্য হয়ে ওঠে ভক্তদের কাছে। নৌবিহারের পর রথে বসানো হয় বিগ্রহগুলিকে। বিশেষ পূজার্চনার পর বিকেলে উল্টো রথে বাড়ির পথে রওনা দেন জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা। পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে সরবাগানে ফিরে গিয়ে বিশেষ আচার মেনে ফের যথাস্থানে স্থাপন করা হয় বিগ্রহ।

এদিন জেলার বিভিন্ন জায়গায় উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পুরুলিয়া শহরের ঐতিহ্যবাহী মনি বাঈজির রথে মহাসমারোহে রশিতে টান দেন ভক্তরা।

