আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৩ আগস্ট: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিমতার সুমনা ধর খুনের মামলার কিনারা করল পুলিশ, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত বৃহন্নলা এবং তার শাকরেদ। উদ্ধার হয়েছে খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র। ব্যবসার এলাকা ভাগাভাগি নিয়ে খুন বলে পুলিশ সূত্রে জানাগেছে।
রবিবার সন্ধ্যায় বৃহন্নলা সুমনা ধর বাড়ি ফেরার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বৃহন্নলা শেখ কবর ওরফে ছোট্টুকে গ্রেফতার করল নিমতা থানার পুলিশ। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র টিও। এর আগে সোমবারই এই ঘটনায় জড়িত ছোট্টুর শাকরেদ লাডলাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ছবি: ধৃত শেখ কবর।
পুলিশ সূত্রের খবর, ব্যাক্তিগত আক্রোশের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। ধৃত ছোট্টুকে সোমবার সারা রাত জেরা করা হয়। ধৃত ছোট্টু সেই জেরার মুখে নিজের মুখে খুনের কথা স্বীকার করেছে। সে পুলিশের সামনে স্বীকার করে ঘটনার দিন সে ও তার সঙ্গী লাডলা অটো করে এসে সুমনাকে গুলি করে।
সুমনাকে বেশ কিছুটা রাস্তা ফলো করে তার পর তাকে গুলি করে বলেও স্বীকারোক্তি দেয় সে। সে জানায়, “সুমনার সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরেই ব্যবসার সীমানা ভাগ নিয়ে গন্ডগোল ছিল। সুমনাকে রবিবার দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করি আমি ও আমার ছেলে লাডলা। আমরা সাবিত্রী পল্লীতে এসে লুকিয়ে দাড়িয়ে ছিলাম। সুমনা গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করলে আমরা পিছন থেকে ৩ টি গুলি করি আর সুমনা লুটিয়ে পড়লে আমরা পালিয়ে যাই।”
সে আরও জানায়, “সুমনা আমার ব্যবসার সীমানায় ঢুকে এলাকায় যাচ্ছিল, আমাদের ব্যবসা সমস্যা সৃষ্টি করছিল তাই তাকে খুন করেছি।”

