আমাদের ভারত, ১৩ জানুয়ারি: কাঁচা ঘর গরম কালে আরামদায়ক, ঠান্ডা থাকে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে বেরিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ। তার এই মন্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ওনাকে বলুন কাঁচা ঘরে গিয়ে থাকতে। একই সঙ্গে তিনি তৃণমূল সংসদের বিরুদ্ধে সরকারি আবাসনের ৭৫ লাখ টাকা ভাড়া বাকি রাখার অভিযোগ তুলেছেন।
আবাস যোজনা প্রকল্প নিয়ে তখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। চারিদিকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে মানুষ তখনই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের “কাঁচা ঘর গরম কালে আরামদায়ক, ঠান্ডা থাকে” এই মন্তব্যে ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
জানা যাচ্ছে, একটি কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী এক মহিলার সঙ্গে কথা বলছিলেন মহুয়া মৈত্র। সেই সময় কৃষ্ণনগরের সাংসদকে বলতে শোনা যায় “এই বাড়িগুলি খুব ঠান্ডা থাকে, গরমকালে খুব আরাম লাগে তবে শীতকালে ঠান্ডা লাগে। আর তার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বর্তমান রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য রাজ্যের শাসক দলের জন্য যে বেশ অস্বস্তিকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লাগাতার আবাস যোজনায় বেনিয়মের অভিযোগ উঠছে। এই ইস্যুতে রীতিমতো কোনঠাসা অবস্থা হয়েছে দলের নেতা কর্মীদের। আর সেখানে দিদির সুরক্ষা কবচ অভিযানে নেমে কাঁচা ঘরের সুবিধার দিকগুলির কথা দলেরই সাংসদের মুখে শোনা যাচ্ছে।
এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “ওনাকে বলুন কাঁচা ঘরে থাকতে। আমরা তো খবর পেয়েছি উনি সরকারি আবাসন নিয়ে রেখেছেন। তার ৭৫ লাখ টাকা ভাড়া বাকি। আমি একটি আরটিআইও করেছি। আরটিআই’য়ের জবাব মিললে জানাবো বিষয়টি। ৭৫ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছেন না উনি।” তিনি আরো বলেন,
“ওনার (মহুয়া মৈত্রের)কি দরকার এসব সরকারি কংক্রিটের জঙ্গলে থাকার। উনি মাটির বাড়ি বানিয়েও তো কলকাতার বুকে থাকতে পারেন। আমরাও একটু গিয়ে দেখব কেমন আরাম লাগে সেখানে।”
দিদি সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে গিয়ে মহুয়া মৈত্র গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। নিজেদের ঘরের অবস্থা সাংসদকে দেখান গ্রামবাসীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই সময় তারা জানান তারা ঘর পাচ্ছেন না। মহুয়া মিত্র সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর গ্রামবাসীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ঘর দেওয়ার বিষয়ে তাদের কোনো আশ্বাস বাণী তারা পেয়েছেন কিনা? যদিও এই নিয়ে ইতিবাচক কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি বলেই জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। ফলে তারা ঘর পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন বলেই জানিয়েছেন।

