“শান্তিপুর আছে নদিয়াতেই, আমরা নদিয়াবাসী ছিলাম থাকবো,” জেলা ভাগের ঘোষণা হতেই বিক্ষোভ শান্তিপুরে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২ আগস্ট: গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী নতুন সাতটি জেলার ঘোষণা করেছেন। এই সাতটি জেলার মধ্যে নদিয়া জেলাকে ভেঙে নতুন রানাঘাট জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যে জেলার সংখ্যা ২৩ থেকে ৩০ করার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তা নিয়েই বিক্ষোভ নদিয়ায়। শান্তিপুরকে নদিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে রাখতে হবে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। তাদের দাবি, শান্তিপুর আছে নদিয়াতেই, আমরা নদিয়াবাসী ছিলাম থাকবো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্দীপ চ্যাটার্জি বলে একজন লিখেছেন, “এতো শরীরের অঙ্গ কেটে নেওয়ার সামিল। যে রাস উৎসব নদিয়া জেলার শান্তিপুরের ঐতিহ্য, যে তাঁতের শাড়ি নদিয়ার শান্তিপুরের গর্ব তা একটা কলমের দাগে মুছে গিয়ে রানাঘাট জেলা বলে পরিচিত হতে পারে? আমরা জন্ম থেকে জেনে আসছি শ্রী বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী, অদ্বৈত মহাপ্রভু ইত্যাদি মহাপুরুষরা নদিয়ার গর্ব তাদের পদধূলি কণায় নদিয়াবাসী ধন্য, আজ কারো খেয়ালে সেটা মিথ্যা হয়ে যাবে? আগামী প্রজন্ম জানবে এই মহাপুরুষগণ রানাঘাট জেলার মানুষ বলে”?

লালটু ভট্টাচার্য নামে একজন লিখেছেন, “টাকার দিক থেকে নজর ঘোরাতেই এই সিদ্ধান্ত নাকি”?

অনুপ ভট্টাচার্য নামে একজন পোস্ট করেছেন, “নদের নিমাই কথাটা মুছে যেতে চলেছে একটি মাত্র মানুষের খামখেয়ালীর জন্য”।

রণবীর আদিত্য লিখেছেন, “শুধুমাত্র কি আপনার জেলা ভাগ? শুধুমাত্র কি আপনার নাম পরিবর্তন? একটা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চালাতে গেলে কত খরচ? কত পদ তৈরি? কত বিল্ডিং তৈরি হবে? আইএএস, আইপিএসদের ছাড়তে যাতে না হয় এটাও কি একটা কারণ? এই টাকা কোথা থেকে আসবে?

স্থানীয় বাসিন্দা মুনমুন চক্রবর্তী (নাম পরিবর্তিত) জানান, “সরকার তো বলেই খালাস। জেলার নাম পরিবর্তন হবে। নদিয়া নাকি এখন রানাঘাট হবে। এতে আমাদের কি অসুবিধা হবে সেটা কি সরকার একবার চিন্তা করেছে? এরপরে আসবে বার্থ সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ডের লম্বা লাইন। সরকার তার পেট ভরাবে। আর আমাদের হেনস্থা হতে হবে। এত টাকা তছরুপের পরও সরকারের পেট ভরছে না? মোটকথা যে টাকা ধরা পড়েছে সেই টাকাই আবার জনগণের কাছ থেকে তুলতে চাইছে। এ কারণেই আবার জেলা ভাগ। যত জেলা তত তোলা”।

মঙ্গলবার জেলার নাম পরিবর্তন নিয়ে পথে নেমে প্রতিবাদ গোটা শান্তিপুরবাসীর, প্রতিবাদের সুরে সরব অধিকাংশ বিশিষ্ট জনেরাও। শান্তিপুর আছে নদিয়াতে, এই দাবিতে প্রতিবাদ সভা। মঙ্গলবার সাত সকালে শান্তিপুরের রাজপথে ডাকঘর মোড়ে নেতাজির আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে প্রতিবাদে সরব হতে দেখা গেল গোটা শান্তিপুরবাসীকে, এই সভায় অংশগ্রহণ করে শান্তিপুরের অধিকাংশ সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়াও শান্তিপুরের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্টজন থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্টজনেরাও এই প্রতিবাদে সরব হয়। যদিও সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনদের একটাই দাবি, নদিয়ার নামকরণের সাথে অনেক ইতিহাস আছে, যা সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত। আজ কি করে এই নদিয়ার নাম পরিবর্তন হতে পারে। শান্তিপুর আছে নদিয়াতেই, আমরা নদিয়াবাসী ছিলাম থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *