স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৭ ফেব্রুয়ারি: সচল পরিবারকে আরো স্বচ্ছ্বল করে তুলতে, অর্থের পিছনে ইঁদুর দৌড়ে ছুটে চলেছে বর্তমান সমাজের প্রায় সকলেই। আর তার ফলেই সন্তানদের শৈশব চুরি যাচ্ছে, হতাশ একাকীত্ব থেকে জন্ম নিচ্ছে মোবাইল টিভির উপর আসক্তি। অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাদের। এ রকমই এক চরম উদাসীনতার নিদর্শন পাওয়া গেল নদিয়ার শান্তিপুরে।

গতকাল দুপুর থেকে শান্তিপুরের বাগচির বাগানের হার্ডওয়ারের ব্যবসায়ী প্রবীর মিত্রর ষষ্ঠ এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়া দুই ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরকম ঘটনা অতীতে আরও দু’বার ঘটায় বাড়ির পাশে শান্তিপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারকে বিষয়টি জানিয়ে রাখেন। এরপর রাত ন’টা নাগাদ, প্রবীর মিত্রের মোবাইলে একটি ফোন আসে, তাদের দুই ছেলেকে ট্রেনের মধ্যে থেকে উদ্ধার করে এক পরিবার। কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় বিশ্বাস ও করুণা বিশ্বাস তাদের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে শান্তিপুরে রওনা দিয়েছিলেন নিকটাত্মীয়ের বিবাহ উপলক্ষ্যে। ট্রেনের মধ্যে লক্ষ্য করেন দুটি বাচ্চার অস্বাভাবিক আচরণ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর খোঁজ পান তাদের বাবার মোবাইল নাম্বারের। এরপর ফোন করে বলেন, শান্তিপুরের আরপিএফ অফিসে আসার জন্য। এরপর আরপিএফের মধ্যস্থতায় হারানো দুই ছেলেকে ফেরত পান ব্যবসায়ী প্রবীর মিত্র।
ছেলেদের বার বার হারিয়ে যাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে প্রশ্ন করলে তিনি কার্যত স্বীকার করে নেন তার এবং তার স্ত্রীর ব্যবসায়িক ব্যস্ততা। তবে আগামীতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে, ছেলেদের পেছনে সময় দেবেন বলে জানান তিনি।

