সুশান্ত ঘোষ, বনগাঁ, ২৮ জানুয়ারি: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বনগাঁ-বাগদা রেল লাইনের জন্য জমি অধিগ্রহনের দাবি নিয়ে গণস্বাক্ষর করে চিঠি দিলেন বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তাঁর দাবি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেল মন্ত্রী ছিলেন সেই সময় উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-বাগদা রেল চালুর করার জন্য বাগদার মানুষকে কথা দিয়েছিল। শিলান্যাসও করেছিলন। তারপর সরকারে আসার পর আর কোনও পদক্ষেপ করেননি। বাগদার মানুষের দাবি পূরণ করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ।
উত্তর ২৪ পরগনার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বাগদা ব্লক। এই ব্লকে কয়েক লক্ষ সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম সড়ক পথ। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি রেল চালুর। এইনিয়ে বেশ কয়েকবার আন্দোলন অবরোধও হয়। ২০০৯ সালে ইউ পি এ – ২ সরকারে দ্বিতীয়বারের জন্য রেল মন্ত্রী হওয়ার পরে বাগদার মানুষের কথা ভেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনগাঁ থেকে বাগদা পর্যন্ত রেল লাইনের জন্য শিলান্যাস করেছিল। কিন্তু বাগদার মানুষের রেল চালু হওয়ার আশা পূরণ হয়নি। এবার বাগদার মানুষের কথা ভেবে বনগাঁ লোকসভার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জমি অধিগ্রহণের জন্য দাবি জানিয়ে ৫ হাজার গণস্বাক্ষর করিয়ে চিঠি দিলেন।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর জানিয়েছেন, সংসদীয় এলাকার চাহিদা অনুসারে আমি ২ মাস আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে চিঠি দিয়েছিলাম। তার কোনো উত্তর আসেনি। আবার গণস্বাক্ষর করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিচ্ছি। তিনি জমি অধিগ্রহনের ব্যবস্থা করলে বাগদা থেকে বয়রা পর্যন্ত রেল লাইন করা হবে বলে রেল মন্ত্রী আমাকে জানিয়েছে। এছাড়া তিনি বলেন, বনগাঁ–রানাঘাট ডবল লাইন ও ঠাকুরনগর স্টেশনের নম্বর প্ল্যাটফর্ম এবং সাবওয়ে নির্মাণের জন্যে অর্থ বরাদ্দের সুপারিশ করেছেন। তিনি জানান, আগামী বাজেট অধিবেশনে এই প্রকল্পগুলির জন্য অর্থ বরাদ্দ হবে বলে তিনি মনে করেন। এদিন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ঠাকুরনগরের নিজের বাসভবনে এই প্রকল্পগুলি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

