আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ১৪ ডিসেম্বর: অবশেষে পলাতক জলপাইগুড়ির ‘ভুয়ো’ নার্সিং প্রশিক্ষণ সেন্টারের কর্ণধার শান্তনু শর্মা বুধবার জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের সিজেএম (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) কোর্টের বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজত দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতের নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার জেলা আদালতে আবেদন জানালো কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
১৯ সেপ্টেম্বর পান্ডা পাড়ার ভুয়ো নার্সিং প্রশিক্ষণ সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর। সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিতে আসা পড়ুয়াদের ‘ভুয়ো’ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। আর এর পরেই উঠে আসে এক ভয়ঙ্কর চিত্র, নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে। বিপুল টাকার বিনিময়ে যেমন ভুয়ো প্রশিক্ষণ দেওয়া হত, তেমনি এক ছাত্রী আরেক ছাত্রীর শরীরে ইনজেকশন এমনকি রক্ত নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হত। পড়ুয়ারা থানায় অভিযোগ জানানোর পর থেকে পলাতক ছিলেন শান্তুনু। এরপর একাধিক দফতরে অভিযোগ জানায় পড়ুয়ারা। প্রতারিত ছাত্রীরা জেলা শাসক থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে।
এরপর অভিযোগ দায়ের করে কোতোয়ালি থানায়। যদিও দীর্ঘ চার মাস ধরে অভিযুক্ত শান্তনু শর্মাকে গ্রেফতার করতে অসফল হয় পুলিশ।
প্রতারিত ছাত্রী পিংকি রায় বলেন, দীর্ঘ চার মাস পরে হলেও অবশেষে শান্তনু শর্মা আইনের জালে আটকা পড়েছে। আমরা আশা করবো আদালতে আমরা ন্যায্য বিচার পাবো, এবং ভুয়ো নার্সিং ট্রেনিং দিয়ে শান্তনু শর্মা যেভাবে আমাদের প্রতারিত করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সেই অর্থ ফেরত পাবো।
অপর দিকে অভিযোগকারীদের আইনজীবী সৌজিত সিংহ বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, এত দিনেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি এটা আশ্চর্যজনক বিষয় হলেও বর্তমানে বহু মামলার ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে আসামি নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করছে। এই অভিযুক্ত শান্তনু শর্মার বিরূদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সেটি খুবই মারাত্মক। ছাত্রীদের শরীরে সেলাই করা, মিথ্যে ইনজেকশন দেওয়া এগুলো সবই ক্রিমিনাল অফেন্স।”

