Shamik, BJP, রাজ্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব শমীক ভট্টাচার্য

আমাদের ভারত, ৬ জানুয়ারি: দেশের অন্য রাজ্যগুলিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গে কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপি-র দলীয় প্রধান
দফতরে এই অভিযোগ করেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

তিনি রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারের মাধ্যমে গরিব মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ ভারতের আর্থসামাজিক উত্তরণ, জল সংরক্ষণ, কৃষি উন্নয়ন ও সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক আইনে রূপায়িত করা হচ্ছে।

শমীকবাবু বলেন, এগুলো একটা লড়াই। এই লড়াই গরিব বনাম বড়লোকের নয়, বরং সততা বনাম দুর্নীতির। আর সেই লড়াইয়ে বিজেপি সর্বদা প্রকৃত শ্রমিক, কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকবে।

‘বিকশিত ভারত কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চয়তা মিশন গ্রামীণ আইন’ (সংক্ষেপে ভি.ভি.জি. রামজি) নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আসানসোলের বিধায়ক ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অগ্নিমিত্রা পাল এবং নেত্রী কেয়া ঘোষ।

শমীকবাবু বলেন, এই আইন কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং প্রকৃত শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষার একটি সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি। গরিবকে শুধু সাহায্য করা নয়, গরিবকে আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী করাই এই বিলের মূল দর্শন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের একেবারে প্রান্তে থাকা মানুষদের আর্থসামাজিক উত্তরণ নিশ্চিত করতেই ২০২৫ সাল থেকে এই আইন কার্যকর হতে চলেছে।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আর বিভ্রান্তি নয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চায়। ভুয়ো জবকার্ড, দুর্নীতি ও তহবিল লুটের যে কালো অধ্যায় রাজ্যে তৈরি হয়েছে, এই নতুন আইন তার অবসান ঘটাবে। প্রকৃত শ্রমিকের মজুরি আত্মসাৎ কার্যত অসম্ভব হবে এবং কাজের ১৪ দিনের মধ্যেই প্রাপ্য অর্থ শ্রমিকের হাতে পৌঁছবে—এটি এই আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

গ্রামবাংলাকে দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও দুর্নীতির চক্র থেকে মুক্ত করতে এবং বাস্তব উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, এই আইন তারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজ্য সরকার যদি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে, তবে গ্রামীণ অর্থনীতি নতুন গতি পাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ আবার উন্নয়নের মূল স্রোতে ফিরে আসবে—এই আশাই ব্যক্ত করেন শমীক ভট্টাচার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *