শবর সমাজের প্রথম স্নাতকোত্তর রমণিতা, গর্ব সব মহলেই

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২১ জুলাই: পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় শবর সমাজে প্রথম স্নাতকোত্তর হলেন রমণিতা শবর। সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ বর্ষে ইতিহাস নিয়ে এম এ পাশ করলেন রমণিতা। ইতিহাস বিভাগে সবার মধ্যে দ্বিতীয় এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম হন তিনি। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৮১.৬%। তাঁর এই সাফল্যে খুশির জোয়ার দেখা গিয়েছে গ্রাম ছাড়িয়ে জেলায়।

পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতির ফেলো তথা পরিচালন কমিটির সভ্য, শবর সমাজ তার গৌরবে গৌরবান্বিত। তাকে সম্বর্ধনা দিতে গর্ব অনুভব হচ্ছে বলে জানালেন সমিতির সচিব প্রশান্ত রক্ষিত। তিনি বলেন, “রমণিতার দেখানো পথে আরও অনেকে যুক্ত হবে বলে আমি আশাবাদী।”

রমণিতা পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতির সদস্য। বুধবার তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার স্নাতকোত্তরের চতুর্থ সিমেস্টারের ফল ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। বরাবাজারের ফুলঝোড় গ্রামের শবরপাড়ার বাসিন্দা রমনিতার লড়াইয়ের পথ সহজ ছিল না। তাঁর বাবা মহাদেব শবর কৃষক। চার ভাই-বোনের মধ্যে রমনিতা বড়। ঝাড়খণ্ডের স্কুল থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পরে, পুরুলিয়ার কস্তুরবা হিন্দি বালিকা বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ২০২০ সালে বরাবাজার লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের পটমদা কলেজ থেকে ইতিহাস নিয়ে স্নাতক হন। শবর সমাজের প্রথম মহিলা হিসেবে তাঁর স্নাতক হওয়ার খবর জেনে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন তাঁকে সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তির ব্যবস্থা করে।

রমনিতার স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হওয়ার খবর জেনে তাঁর বাবা মহাদেব মা বেহুলা খুশি। শিক্ষকতা করা তাঁর ইচ্ছে। রমনিতা জানান, “এ বার ‘নেট’ ও ‘সেট’ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেব। তার সঙ্গে বিএড করার ইচ্ছাও রয়েছে।” সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ামক সুবল দে বলেন, “জাতি ধর্ম নির্বিশেষে শিক্ষা ব্যবস্থা যে জেলার সব কোনায় পৌঁচেছে তাঁর প্রমাণ রমনিতা। ও অগ্রদূত। ওর আরও সাফল্য কামনা করি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *