তিস্তা নদীতে মরে ভেসে উঠলো বোরোলি, দারাঙ্গি সহ একাধিক প্রজাতির নদীয়ালী মাছ

আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৩০ অক্টোবর: জলপাইগুড়ি তিস্তা নদীতে মরে ভেসে উঠলো বোরোলি, দারাঙ্গি সহ একাধিক প্রজাতির নদীয়ালী মাছ। তিস্তার জল দূষণের কারনেই এই ঘটনা বলে অনুমান। খবর পেয়ে ঘটনার কারন খুঁজতে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে মৎস্য দফতর। জল ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করার পাশাপাশি মরে যাওয়া মাছও সংগ্রহ করা হয়েছে। রবিবার জলপাইগুড়ির জুবলি পার্ক লাগোয়া এক নম্বর স্পার সংলগ্ন তিস্তার নদীর ঘটনা।

গত ৪ অক্টোবর সিকিম পাহাড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় তিস্তায়। পাহাড় থেকে নদীর জলে ভেসে আসে সেনা বাহিনীর সমরাস্ত্র। যা ফেটে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, আহত হয়েছেন একাধিক জন। এরপর সেনা ও পুলিশের যৌথ সার্চ অপারেশনে কিছুটা বিপদ মুক্ত হলেও এখনও পুরোপুরি বিপদমুক্ত হয়নি তিস্তার চর। এরই মধ্যে এবার তিস্তা নদীতে মাছের মড়কের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়াল তিস্তা পাড় এলাকায়।

৪ অক্টোবর বন্যার সময় যুদ্ধ সামগ্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল নদীতে ভেসে আসে বলে অনুমান সকলের। তা থেকে জল দূষণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাসিন্দারা। এদিকে জলে ভেসে ওঠা মরা মাছ সংগ্রহ করছেন কিছু উৎসাহী বাসিন্দা। এই মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের তরফে।

স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ মল্লিক বলেন, “এই মাছ খাওয়া ঠিক হবে না বলা হচ্ছে। লোক বুঝছে না তারপরেও। মৎস্য দফতর আসবে তারাই বলতে পারবে কীভাবে মাছ মরল।” আরও এক বাসিন্দা গোপাল সরকার বলেন, “নদীর দিকে গেলাম, দেখলাম অনেক মাছ ঝটপট করছে। আমাদের অনুমান বিষক্রিয়া নয় কেউ হয়ত কোনও কেমিকেল দিতে পারে। বন্যার থেকেও হতে পারে।”

খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা কুসুম মণ্ডল বলেন, “মৃত মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।”

মৎস্য দফতরের আধিকারিক সুমন সাহা বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি আমরা। জল, মাটির নমুনা ও মৃত মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেল জলে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়েছে। কেন এমনটা হল ল্যাবে পাঠিয়ে নমুনা পরীক্ষা করার পরেই পরিস্কার হওয়া যাবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *