গঙ্গাজলঘাঁটি ও বড়জোড়ায় হাতির তান্ডবে ধুলিসাৎ একাধিক মাটির বাড়ি, এলাকায় আতঙ্ক

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৭ সেপ্টেম্বর: ফের হাতির তান্ডব শুরু হয়েছে বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের বড়জোড়া বেলিয়াতোড় ও গঙ্গাজলঘাঁটি রেঞ্জ এলাকার জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে। গতকাল রাতে তিনটি বুনো হাতি গঙ্গাজলঘাঁটি রেঞ্জের রামপুর গ্ৰামে তান্ডব চালায়। বেশ কয়েকটি মাটির বাড়ি ভেঙ্গে ধূলিস্মাৎ করে দিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ সপ্তাহ ধরে এই এলাকার ৪/৫টি আবাসিক দাঁতাল হাতি কখনও বেলিয়াতোড় আবার কখনও বড়জোড়া রেঞ্জের কোনও না কোনও গ্রামে ঢুকে বাড়ি ঘর ভাঙ্গছে, নয়তো ফসলের খেত মাড়িয়ে দিচ্ছে। হাতি তাড়ানোর বিষয়ে বন দফতর কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় আতঙ্কে হাতি উপদ্রুত গ্রামের অধিবাসীরা।

গ্রামের বাসিন্দা চন্দন মুখার্জি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সারা বছরই বাঁকুড়া জেলার জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের মানুষগুলো আতঙ্কে বাস করেন। আমরা মরণ দূত হাতিকে নিয়েই বাস করি। তাই যে কোনও মুহূর্তে বুনো হাতি গ্রামে ঢুকে পড়ে তাণ্ডব চালাতে পারে তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হয়।কিন্তু বন কর্তাদের কোনও হেলদোল নেই।
হাতির ভয়ে ছেলে মেয়েরা জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে স্কুল কলেজ যেতে পারে না। তিনি বলেন, গতকাল মাঝ রাতে
৩টি বুনো হাতি গ্রামে ঢুকে রীতিমতো তান্ডব চালায়। হাতির তান্ডবের জেরে গ্রামের বেশ কয়েকটি কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাতি সমস্যা সমাধানের জন্য গড়ে ওঠা সংগঠন সংগ্রামী গণমঞ্চের জেলা সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জি বলেন, যে বাড়িগুলি হাতির হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই বাড়ির যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় তাতে বাঁশ কাঠের দাম হয় না। তাই আমাদের দাবি, যে বাড়ি গুলি ভেঙ্গেছে সেগুলি পুনরায় নির্মাণ করে দিতে হবে। তিনি বলেন, এই দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। কিন্তু বন দফতর এখনও তা মানেননি। এবার আমরা ফের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে রামপুর বিটের বিট অফিসার বিদ্যুৎ কর্মকার বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। যে সব বাড়ি ভেঙ্গেছে তার জন্য নির্দিষ্ট ফর্মে ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে বলেছি। তারা নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন। এছাড়া হাতিগুলিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *